নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে যখন সর্বত্র আলোচনা, তখন আইনমন্ত্রী বললেন অপেক্ষা করতে। গতকাল শনিবার মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। আসাদুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? তার ঝটপট উত্তর, সময় বলে দেবে। খবর বিডিনিউজের।
জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৩–এর (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে পদত্যাগের মধ্যে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। গতকাল ছিল ২৪ জুলাই, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় আছে। সুতরাং বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো কোনো পরিস্থিতি এখন তৈরি হয়নি। যেহেতু ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা সাংবিধানিকভাবে; আশা করি, সেই অধিবেশনে এটা করা সম্ভব হবে।
‘গুরুতর অসুস্থতার’ কথা জানিয়ে শুক্রবার বিকালে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিন বছর তিন মাস কাটিয়ে মেয়াদপূর্তির আগেই বিদায় নেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে এক সাংবাদিক বলেন, তারা শনিবার জানতে পেরেছেন যে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে ঢাকার একটি আদালতে। উনি শুক্রবার বলেছিলেন যে আর্টিকেল ৫১ অনুযায়ী উনার বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। কিন্তু উনার অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য এই মামলাটি হয়েছে। এক্ষেত্রে এই মামলাটি কি বিচার্য হবে? ব্যাখ্যা কী?
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, যখন ব্যাখ্যার প্রয়োজন আসবে তখন ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে। তখন আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন রাখেন, পদত্যাগী মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন, তখন অনেকে মারা গেছেন, সেক্ষেত্রে উনাকে দায়ী করা যাবে কি না? এ প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, না, রাষ্ট্রপতিকে এখানে প্রটেকশন দেওয়া আছে; এটাতে রাষ্ট্রপতি প্রটেক্টেড।
এক সাংবাদিক বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে যে অভিযোগগুলো আছে… এ কথা শুনে আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা যাচাই–বাছাই করে দেখব; সময় হলে দেখব। তখন এক সাংবাদিক বলেন, এমনে হওয়ার সুযোগ আছে কি না? জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এইটা যারা (মামলা) করেছেন, কী উদ্দেশ্যে করেছেন, তাদের উদ্দেশ্য কি সৎ নাকি অসৎ এগুলো দেখি।
বাংলানিউজ জানায়, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তড়িঘড়ি করতে চায় না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) আলোচনা শেষে নির্বাচনের সময়সূচি ও পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায় সাংবিধানিক সংস্থাটি।
দলীয় নাকি অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব? : বিএনপির একটি বৃহৎ অংশের মত হলো, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই কাউকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। এমন কাউকে বেছে নেওয়া উচিত যিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন এবং দলের আদর্শের প্রতি শতভাগ আস্থাশীল।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের টেবিলে : বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। তবে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র ছাড়া তাকে মূলত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ীই কাজ করতে হয়। তারপরও রাষ্ট্রের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে বা রাজনৈতিক সংকটে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা হয়ে ওঠে অপরিসীম।
গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে। যথাসময়ে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশবাসীকে জানানো হবে।












