পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে অবস্থানরত সব অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ‘সিরিয়াল কিলার’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আইনি লড়াইয়ের জন্য আমিরাতে একটি ল’ ফার্মও নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের (ঢাকা–১৪) আনা বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের মতো একজন কুখ্যাত লোক নিয়ে মহান সংসদে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করতে হচ্ছে, এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন সিরিয়াল কিলার। তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়। গত ১২ জুন ইন্টারপোলের আবুধাবি শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আওয়ামী শাসনামলে ১৭ বছরের নির্যাতন–নিপীড়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে শেখ হাসিনার পরই বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নাম উল্লেখ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, কেবল বেনজীর নন, বিদেশে পলাতক সব অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে এনে জুডিশিয়াল প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা হবে না।
আওয়ামী লীগ প্রশ্নে এক থাকতে হবে : আওয়ামী লীগের গুম, খুন ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের পলাতক আসামি ও দুর্বৃত্তদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে। এ প্রশ্নে কাউকে দায়ী না করে সবাইকে সরকারের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই মিলে আমাদের একটাই অঙ্গীকার হবে, প্রতিশ্রুতি হবে–আমরা এখানেই বিতর্ক করব, তর্ক করব, দ্বিমত হব, সংখ্যাগরিষ্ঠ হব। কিন্তু ফ্যাসিবাদী, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রশ্ন যেখানেই আসবে, তার প্রতিরোধের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।
তিনি আরও বলেন, জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা, গণতন্ত্রের পক্ষে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই ঐক্যকে শক্তিতে পরিণত করে গণতন্ত্রের ঝান্ডাকে আমরা ঊর্ধ্বে তুলে ধরব, এই প্রত্যাশা সবার কাছে করি।












