তিন ইউনিয়নে আজ থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর নিয়ে বিরোধ তিন ইউনিয়নে পাল্টা সমাবেশ

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি | রবিবার , ২৬ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নবগঠিত উপজেলা ফটিকছড়ি উত্তরের সদর দপ্তরের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ভৌগোলিক দিক থেকে যৌক্তিক ও মধ্যবর্তী স্থানে সদর দপ্তর স্থানান্তরের দাবিতে আজ রোববার সকাল থেকে উপজেলার উত্তরাংশের ৩টি ইউনিয়নে শুরু হচ্ছে টানা ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক হরতাল ও সড়ক অবরোধ। অন্যদিকে এই কর্মসূচিকে উন্নয়ন পরিপন্থী নৈরাজ্য আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে এবং সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে সদর দপ্তর বহাল রাখার পক্ষে অপর দুটি ইউনিয়ন এবং আন্দোলনরত একটি ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে নতুন এই উপজেলায় উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বানে আজ সকাল ৬টা থেকে উপজেলার বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে সর্বাত্মক হরতাল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার ঘোষিত বর্তমান স্থান পশ্চিম ভূজপুর মৌজাটি উপজেলার একবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এর ফলে সীমান্ত সংলগ্ন বাগানবাজার বা হেঁয়াকো থেকে সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রায় ৩০৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে, যা ভোগান্তি তৈরি করবে। তারা সর্ব উত্তরের এই তিন ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থানান্তরের দাবি জানান।

এদিকে হরতাল কর্মসূচিকে সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নৈরাজ্য ও অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে অবস্থান তৈরি হয়েছে উপজেলার দক্ষিণ ও মধ্যভাগে। আজ সকাল থেকে হারুয়ালছড়ি, ভূজপুর এবং আন্দোলনরত নারায়ণহাট ইউনিয়নের একটি এলাকার সর্বস্তরের জনগণ রাস্তায় নামছেন। তারা হরতালবিরোধী ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন পয়েন্ট ও বাজারে সমাবেশ এবং মিছিলের আয়োজন করেছেন।

হরতালবিরোধীদের দাবি, ভূজপুর থানা সংলগ্ন এলাকাটি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং নিরাপদ স্থান। সেখানে ইতিমধ্যে সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে। একটি পক্ষ অহেতুক সড়ক অবরোধ ও হরতাল ডেকে সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক ও যাতায়াত ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নারায়ণহাট ইউনিয়নের আংশিক এলাকার বাসিন্দাদের একাংশও এই হরতালকে সমর্থন না করে সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তিন ইউনিয়নে হরতাল এবং বাকি অংশে হরতালবিরোধী সমাবেশকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?
পরবর্তী নিবন্ধরাঙামাটিতে মায়ের হাতে ছেলে খুন