অনলাইনে জুয়া খেলতে গিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়েছিলেন এক যুবক। সেই ঋণ শোধ করতে পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। এ জন্য নিজেই আত্মগোপনে গিয়ে নিজের মুঠোফোন নম্বর থেকে ভাইকে ফোন করে অপহরণের কথা জানান। তাকে জীবিত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার দাবিও করা হয়।
পরে র্যাবের অভিযানে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম মো. আরিফুর রহমান (২৯)। তিনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার শান্তা এলাকার বাসিন্দা। ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ফুটপাতে তার একটি দোকান রয়েছে। সেখানেই তিনি থাকতেন।
র্যাব–৭ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় আরিফুর তার এক বন্ধুকে দোকানে বসিয়ে রেখে বিকাশে টাকা ক্যাশ আউট করতে বের হন। এরপর তিনি আর দোকানে ফেরেননি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আরিফুরের মুঠোফোন নম্বর থেকেই তার ভাইয়ের কাছে ফোন করা হয়। ফোনে জানানো হয়, আরিফুরকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।
এ ঘটনায় আরিফুরের বন্ধু আসাফ–উদ–দৌলা বাদী হয়ে রাজধানীর ভাটারা থানায় অপহরণের মামলা করেন। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আরিফুরের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে র্যাব।
র্যাব–৭–এর একটি দল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুরকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়। র্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুর জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। জুয়া খেলতে গিয়ে তার প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ হয়। সেই ঋণ পরিশোধের জন্য পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করে তিনি আত্মগোপনে যান। পরে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে ভাইয়ের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন।
র্যাব–৭–এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আরিফুরকে উদ্ধারের পর সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে নিজেই আত্মগোপনে গিয়েছিলেন বলে র্যাবকে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক মো. আলমগীর বলেন, উদ্ধার করা আরিফুরকে ভাটারা থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।











