কর্মজীবীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে হবে : আবু সুফিয়ান

নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন : সিডিএ চেয়ারম্যান

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৬ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত এলাকাগুলোকে পর্যায়ক্রমে পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি আবাসন সংকট নিরসনে গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

গতকাল সকালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান কার্যালয়ে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ, শ্রমজীবী ও কর্মজীবীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কর্মস্থলের নিকটে সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তোলা, প্রাকৃতিক ভূমি ও জলাধার সংরক্ষণ এবং নগরের সকল এলাকায় সমতার ভিত্তিতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে বেলুন উড়িয়ে র‌্যালির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিডিএর বোর্ড সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ, কর্মকর্তা–কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বিশ্ব বসতি দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’।

আলোচনা সভায় সিডিএর উপ–প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনছারী একটি বিশেষ উপস্থাপনা প্রদান করেন। উপস্থাপনায় চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, আবাসন ঘাটতি, নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের প্রয়োজনীয়তা, অপরিকল্পিত নগর বিস্তার, নাগরিক সুবিধার বৈষম্য এবং ভবিষ্যৎ আবাসন চাহিদার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি চলমান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানের পরিকল্পিত আবাসন, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এলাকা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

সিডিএর বোর্ড সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মানজারে খোরশেদ আলম বলেন, ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদা ও নগর উন্নয়নের জটিলতা মোকাবিলায় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার পাশাপাশি চউকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধি প্রয়োজন। তিনি পাহাড়, লেক, প্রাকৃতিক জলাধার ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণের পাশাপাশি এসব এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে পরিবেশবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব উন্নয়নের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হানিফ অতিঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর চাপ কমানো এবং নগর সমপ্রসারণকে সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সময়মতো পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে তার নেতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হবে। তিনি গ্রিন বিল্ডিং, জ্বালানি সাশ্রয়ী ভবন, প্রাকৃতিক আলো–বাতাস, জল সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুসরাত সুলতানা বলেন, বাসযোগ্য শহর গঠনে বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনকেও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, নিরাপদ চলাচল, জনপরিসর সৃষ্টি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা, ফুটপাত, সবুজায়ন ও বিনোদন সুবিধার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের মূল বার্তা হলো মানুষের জন্য পরিকল্পনা করা। একটি শহর তখনই প্রকৃত অর্থে বাসযোগ্য হয়, যখন সেখানে সকল শ্রেণি–পেশার মানুষের জন্য আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত, সবুজ, নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু চউকের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সকল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও নগরবাসীর সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। চলমান মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা, আবাসন, পরিবহন, পরিবেশ, জলাবদ্ধতা, নাগরিক সুবিধা ও নগর সমপ্রসারণকে সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। চউক চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ, মাস্টারপ্ল্যানভিত্তিক উন্নয়ন এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে পুনরায় একটি সবুজ, নান্দনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিশ্বকে দেখাতে চাই বাংলাদেশে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদ
পরবর্তী নিবন্ধমস্তিষ্কের অনুভূতি-আচরণের রহস্য উন্মোচনে চিকিৎসায় নোবেল ৩ গবেষকের