মীরসরাইয়ে বনায়নের অভাবে বিপন্ন বন্যপ্রাণী

২০ কিমি ম্যানগ্রোভ বন এখন ধূ-ধূ প্রান্তর উজাড় হয়েছে ২৬ হাজার একর বনভূমি

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই | শনিবার , ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

দেশের বৃহত্তম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুরক্ষায় উপকূলীয় বন ও বন্যপ্রাণীর ভূমিকা অনস্বীকার্য হলেও বাস্তবে সেখানে চলছে উল্টো চিত্র। শিল্পাঞ্চল গড়তে গিয়ে হাজার হাজার একর বন উজাড়ের পর এখন বিপন্ন হয়ে পড়েছে অবশিষ্ট বন্যপ্রাণীও। সমপ্রতি একটি চিত্রা হরিণকে নির্মমভাবে জবাই করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ও বুধবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জলাশয়ের কিনারে একটি মায়াবী চিত্রা হরিণের পা চেপে ধরে আছেন এক ব্যক্তি এবং অন্যজন দা দিয়ে কুপিয়ে সেটির গলা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চললেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বাস্তব কোনো উদ্যোগ এখনো পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, এতে শুধু পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে না, বরং অরক্ষিত হয়ে পড়ছে খোদ অর্থনৈতিক অঞ্চলও। ২৯ এপ্রিলের মতো বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে বনের অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বন বিভাগ জানায়, আগে মীরসরাইয়ের উপকূলীয় অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল। কয়েক হাজার হরিণের পাশাপাশি এই বন ছিল বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, শিয়াল, মেছো বাঘ ও শত প্রজাতির পাখির আশ্রয়স্থল। ২০১০ সালে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বমোট ২৬ হাজার ৩১৪ একর বনভূমি উজাড় হয়েছে। একসময় যেখানে সাড়ে তিন লাখ গাছ এবং হরিণ, বানর ও মহিষের অভয়ারণ্য ছিল, সেখানে এখন ধুধু প্রান্তর।

মীরসরাই উপকূলীয় বনরেঞ্জ কর্মকর্তা নওশাদ আলম বলেন, উন্নয়নের প্রয়োজনে শিল্পাঞ্চল হলেও বনায়নের দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হলে আমরা তা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারতাম। অতীতে যেকোনো দুর্যোগে এই বন বুক পেতে দিয়ে জানমাল রক্ষা করত। এখন দুর্যোগ সরাসরি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ওপর আঘাত হানবে, যা সম্পদের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। মীরসরাইয়ের ইতিহাসঐতিহ্য ও পানি সম্পদ ফোরামের সভাপতি ডা. জামশেদ আলমও জানান, কাগজেকলমে গাছ রোপণের কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষ সমপ্রতি কাগজেকলমে ৭০০ একর জমিতে বনায়ন কর্মসূচির দাবি করলেও তা এখনো দৃশ্যমান নয়। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক সেজুতি বড়ুয়া জানান, সকল কারখানায় ৬০ শতাংশ স্থানে সবুজায়নের নির্দেশনা দিয়ে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সুপার ডাইকের পশ্চিম পাশে কিছু বন সৃজন করা হয়েছে, যেখানে গাছগুলো বড় হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরো এলাকায় সবুজায়নে জোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অর্থনৈতিক জোনের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক আবু তৈয়ব বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আমরা খুব শীঘ্রই এখানে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ গাছ লাগানোর কাজ শুরু করবো। এছাড়া পুরো অঞ্চলের সুরক্ষায় বৃহত্তর প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারত পর্যালোচনা করছে : রণধীর জয়সওয়াল
পরবর্তী নিবন্ধপ্রতিবন্ধী ভাইপোকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচার, আহত ১০