দখল-দূষণে মরতে বসেছে ‘মরা খাল’

শফিউল আজম, পটিয়া | শনিবার , ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ

কোথাও বেদখল, কোথাও ময়লা আবর্জনার ভাগাড়, আবার কোথাও খালের উপর অবৈধ স্থাপনা। এভাবেই দখলদূষণে মরতেই বসেছে পটিয়া পৌরসদরের বাস স্টেশন এলাকা থেকে চানখালী খাল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ জনগুরুত্বপূর্ণ ‘মরা খালটি’। খালের উপর কোথাও দুই তিন ফুটের লতাগুল্মের আস্তরণে ভরে গিয়ে খালটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে সত্যিই মরতে বসেছে। খালটি দ্রুত খনন কর্মসূচির আওতায় না আনলে অচিরেই এ মরা খালটির অস্তিস্ব বিপন্ন হয়ে পটিয়া পৌরসদরের ৪নং ও ৫নং ওয়ার্ডসহ বিশাল এলাকাজুড়ে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয় মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে জানান স্থানীয়রা। বিগত তিন বছর পূর্বে খালটি একবার খনন কর্মসূচির আওতায় এনেও খনন কাজ সম্পন্ন না করে যেনতেনভাবে কিছু মাটি উঠিয়ে খাল খননের নামে অর্থ লোপাট করেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ একটি সিন্ডিকেটএমনটাই দাবি করেছেন স্থানীয়রা। মোহাম্মদ হোসাইন নামের একজন সমাজকর্মী বলেন, স্থানীয়ভাবে খালটি অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ। যদিওবা খালটি দীর্ঘ বছর ধরে মরা খাল নামেই পরিচিত। তবে বর্ষা মৌসুমে উপজেলার হাইদাগাঁও, কচুওয়াই এবং পৌরসভার ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডসহ বিশাল এলাকার পানি এ খাল দিয়েই নিকাশ হয়ে চানখালী খালে পতিত হয়। এ খালটি বর্তমানে অস্তিস্ব সংকটে রয়েছে দাবি করে তিনি আরো বলেন, খালটি অস্তিত্ব হারালে পৌরসভার দুইটি ওয়ার্ড বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও দূষণে হাজার হাজার পৌরবাসী সীমাহীন সংকটে পড়বে। সহসাই খালটি খনন করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং পানি চলাচল স্বাভাবিক করা না গেলে অচিরেই এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণসহ নানা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করবে। বর্ষ মৌসুমে পটিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের হাজির পাড়া, ৪নং শীল পাড়া, মির্জা বাড়ি, সর্দার পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে মানুষ চরম দূর্ভোগের শিকার হয়।

পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র মাস দু’য়েক হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন খাল খননে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্যোগ নিয়েছেন। পটিয়ায়ও জনগুরুত্বপূর্ণ কিছু খাল খননে প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, পটিয়ায় ৮৬টি খাল রয়েছে। এরমধ্যে ৪৬টি খাল খননের জন্য মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানোর কাজ চলমান রয়েছে। মরা খালটি খননের আওতায় এসেছে কিনা এ ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মরা খালটি বাস স্টেশন থেকে শুরু হয়ে পৌরসভার ৪ ও ৫নং ওয়ার্ড হয়ে বাইপাস হয়ে ভাটিখাইন ইউনিয়নের বাকখালী গ্রাম হয়ে চানখালী খালের সাথে মিলিত হয়েছে। বাইপাস এলাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনা নির্মাণ করে খালকে সংকুচিত করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। ময়লা আবর্জনা ও কচুরিপানায় খালটি বিভিন্ন স্থানে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসীতাকুণ্ডে দাদার সাথে গোসল করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধমীরসরাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু