নগরীর বাকলিয়া এলাকায় ১৩ দিন আগে সংঘটিত চার বছরের শিশু ধর্ষণের মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। গতকাল চট্টগ্রাম আদালতে থাকা নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় তদন্ত কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভীর আহমেদ এ চার্জশিট দাখিল করেন। এতে ১৩ জন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মাত্র ৭ কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ফরেনসিক রিপোর্ট ‘কনস্লুসিভ’ হয়েছে। সেই ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছি। নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেটি রিসিভও হয়েছে। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, গত ৩ জুন ফরেনসিক রিপোর্ট পেয়েছি আমরা। আর আজকে (গতকাল) আমরা চার্জশিট দাখিল করেছি। খুবই গুরুত্বের সাথে এ মামলাটি তদন্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি গুদাম কক্ষের কাছে খেলছিল ৪ বছর বয়সী অবুঝ শিশুটি। সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে আসামি। আসামি মনির হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। থাকতেন নগরীর বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখাননগর এলাকায়। ঘটনা পরবর্তী গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে চার বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে। পরে আদালতে পাঠানো হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এদিকে ঘটনা পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আসামিকে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতিকালে একদল ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হন। পাশাপাশি পুলিশবাহী কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের এ ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।












