গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ছেলের বৌ–ভাতের অনুষ্ঠানের জন্য জবাই করা গরুটি চুরি করা–এমন অভিযোগে বরের বাবা রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি যাওয়া গরুর মাংস, মাথা, চামড়া ও পা জব্দ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার। গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম উপজেলার বকশিচর গ্রামের মৃত দুলা মিয়ার ছেলে। খবর বাংলানিউজের। এ ঘটনায় গরুর মালিক পূর্ব মাস্তা গ্রামের শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রফিকুল ইসলামসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকশিচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহানের বিয়ে শুক্রবার উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামে সম্পন্ন হয়। শনিবার নিজ বাড়িতে তাদের বৌ–ভাতের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে শুক্রবার দিনগত রাতের শেষভাগে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে একটি বড় গরু জবাই করা হয়। অন্যদিকে, একই রাতে উপজেলার পশ্চিম মাস্তা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে একটি গরু চুরি হয়। রাতেই বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় গরুটি খুঁজতে বের হন শহিদুল ও তার স্বজনরা। স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশের জমিতে গরুর পায়ের ছাপ দেখতে পান তারা। পরে সেই ছাপ অনুসরণ করে পার্শ্ববর্তী বকশিচর গ্রামে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে যান তারা। সেখানে গিয়ে চুরি যাওয়া গরুটির মতো একটি গরু জবাই করে মাংস কাটার দৃশ্য দেখতে পান। এ সময় গরুর মালিক ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনের সঙ্গে রফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের প্রথমে কথা–কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে গরুর মালিকের এক ভাতিজা ছুরিকাঘাতে আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রফিকুল ইসলামকে আটক করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে জবাই করা গরুর মাংস, মাথা, চামড়া ও পা জব্দ করা হয়। তবে এ ঘটনায় জড়িত অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে শনিবার বিকেলে গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রফিকুল ইসলামসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।













