ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোটের প্রায় এক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হয়েছে গতকাল বুধবার। ২০১১ সালের রেকর্ড ভেঙে এবার ভোটদানের হার হয়েছে সর্বোচ্চ।
ভোটগ্রহণ শেষের একঘণ্টা বাকী থাকতেই ভোট পড়ে ৮৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রথম দফা নির্বাচনে একই সময় পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছিল ৮৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সেই হিসাবে দ্বিতীয় দফায় পড়া ভোট প্রথম দফাকেও ছাপিয়ে গেছে। বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোট শেষের পর সবার মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে একটি প্রশ্ন। তা হল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কি শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দূর্গ ভাঙতে সফল হবে? বুথ ফেরত জরিপ বলছে বিজেপি সফল হতেও পারে। ভোট শেষে জরিপ সংস্থাগুলোর সমীক্ষায় তেমন আভাসই মিলছে। খবর বিডিনিউজের।
ছয়টি জরিপ সংস্থা এরই মধ্যে তাদের সমীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে চারটি সংস্থার সমীক্ষাই রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে টপকে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ক্ষমতায় আসীন হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মাত্র ২টি জরিপে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ‘জনমত পোল’ সংস্থার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে। তাছাড়া, জরিপ সংস্থা ‘পিপলস পালস’ও তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ১৭৭ থেকে ১৭৮ টি আসন এবং বিজেপি ৮৫ থেকে ১১০ আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির বড় জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে ‘প্রজা পোল’ জরিপ সংস্থা। ‘পি–মার্ক’ এর সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৫০–১৭৫টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ‘ম্যাট্রিজ’ এর জরিপে বিজেপি ১৪৬–১৬১ আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আর ‘পোল ডায়েরি’ এর সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ১৪২–১৭১ টি আসন। ‘চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস’ এর সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিজেপি পেতে পারে ১৫০–১৬০ আসন এবং তৃণমূল পেতে পারে ১৩০–১৪০ আসন।
২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদু সংখ্যা ১৪৮। অধিকাংশ বুথফেরত জরিপই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিজেপি এবার তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে বড় ধরনের ভাঙন ধরিয়ে সরকার গঠন করতে পারে। বুথ ফেরত জরিপের ফল যদিও প্রায় সময়ই মেলে না। কিন্তু ফল মিলে গেলে তা হবে এই রাজ্যে বিজেপির জন্য এক উল্লেখযোগ্য জয়। ভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ মে।














