২৫ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষক হারানোর ঝুঁকিতে আফগানিস্তান

| বুধবার , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ at ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষা ও নারীদের কর্মসংস্থানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি ২৫ হাজারের বেশি নারী শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মী হারাতে পারে। সোমবার জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। খবর বিডিনিউজের। ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান নারীদের বেশিরভাগ সরকারি চাকরিতে নিষিদ্ধ করে আর মেয়েদের পড়াশোনা ষষ্ঠ শ্রেণির (১২ বছর বয়স) পর বন্ধ করে দেয়। ইউনিসেফের আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষা ও নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তার মাশুল শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিধিনিষেধের ফলে ইতিমধ্যে অন্তত ১০ লাখ কিশোরী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেশাদার নারী শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার নারী শিক্ষক এবং ৫৪০০ স্বাস্থ্যকর্মী হ্রাস পেতে পারে, যা ২০২১ সালের তুলনায় দেশটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২৫ শতাংশ। ২০৩৫ সাল নাগাদ স্বাস্থ্যকর্মী হারানোর এই সংখ্যা ৯৬০০তে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ভবিষ্যৎ শিক্ষক, নার্স, চিকিৎসক কিংবা ধাত্রীদের হারানোর ক্ষতি সামলানোর সামর্থ্য আফগানিস্তানের নেই। কারণ এরাই দেশটির জরুরি সেবাগুলো সচল রাখেন। কিন্তু মেয়েদের শিক্ষা থেকে দূরে রাখা হলে এটাই হবে দেশটির চরম বাস্তবতা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আফগানিস্তানের বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় নারী রোগীদের চিকিৎসার জন্য নারী স্বাস্থ্যকর্মী এবং মেয়েদের পাঠদানের জন্য নারী শিক্ষকদের উপস্থিতি অপরিহার্য।

পূর্ববর্তী নিবন্ধট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে অভিযুক্তের
পরবর্তী নিবন্ধওপেক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে আমিরাত