সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধ

| বুধবার , ১২ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আলআসাদ ও তার ভাই মাহেরকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলার সময় হওয়া ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দামেস্কের একটি আদালত। সিরীয়দের বিরুদ্ধে খুন, নির্যাতন ও অপব্যহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাশারের চাচাতো ভাই আতেফ নাগুইবকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত; জানিয়েছে আল আরাবিয়া।

গতকাল মঙ্গলবার আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেওয়া এ রায়টিই সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে হওয়া প্রথম সাজা। সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ চলতি বছর থেকে সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাদের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু করেছে। খবর বিডিনিউজের।

২০২৪ এর ডিসেম্বরে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাশার তার পরিবারপরিজন নিয়ে রাশিয়ার মস্কো পালিয়ে যান। তারপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন বলে ধারণা করা হয়। দামেস্কের অপরাধ আদালত বাশার ও মাহের আলআসাদকে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতের রায়ে মাহের আলআসাদকে হত্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ, নির্যাতন ও উসকানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ২০১১ সালের মার্চে যে দারা প্রদেশ থেকে তৎকালীন আসাদবিরোধী গণবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল, সেই প্রদেশের ‘পলিটিক্যাল সিকিউরিটি ব্রাঞ্চ’এর সাবেক প্রধান আতেফ নাগুইবকে হত্যা ও নির্যাতনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে বলা হয়, নাগুইব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছেন এবং মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো নির্যাতন চালিয়েছেন। তার এসব অপরাধ ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’এর শামিল উল্লেখ করে আদালত তাকে ‘সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড’ প্রদান করে। নাগুইব সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও তা আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানান বিচারক।

দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিরিয়া শাসন করেছেন হাফেজ আলআসাদ আর পরবর্তীতে তার ছেলে বাশার আলআসাদ। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশজুড়ে আসাদ রাজবংশের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি অব হিউম্যান রাইটস’এর তথ্য অনুযায়ী, সেই বিদ্রোহ থেকে শুরু হওয়া ১৩ বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। জীবন বাঁচাতে আরও লাখ লাখ মানুষ প্রতিবেশী লেবানন, জর্ডান, তুরস্ক এবং ইউরোপে পাড়ি জমায়। আসাদ বংশ ক্ষমতায় টিকে থাকতে ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদকে উসকে দিয়েছিল। দেশের নতুন নেতারা সব সমপ্রদায়ের প্রতিনিধিত্বমূলক ভবিষ্যতের আশ্বাস দিলেও আসাদ আমলের সেই বিভেদের কারণে সিরিয়াজুড়ে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর ফের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রথম দিনে বেশি এসেছে চাপিলা ও কাঁচকি, ঘাটে ফিরেছে ব্যস্ততা
পরবর্তী নিবন্ধসাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে