অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া কাপ্তাই হ্রদে গত তিনদিনের ভারী বৃষ্টিতে পানির স্তর সামান্য বেড়েছে। তবে লেকের পানির ওপর নির্ভরশীল কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) ৫টি ইউনিট চালু করতে লেকে যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন তা এখনো হয়নি বলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত তিনদিনের বৃষ্টিতে কাপ্তাই লেকে ৮ দশমিক ৮২ মিন সি লেভেল (এমএসএল) পানি বেড়েছে বলে জানান কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মাহমুদ হাসান। গতকাল রাতে তিনি আজাদীকে বলেন, লেকে মাত্র অল্প পানি বেড়েছে। এখন লেকে পানি আছে ৭৬ দশমিক ৮২৮০ মিন সি লেভেল (এমএসএল)। বৃষ্টির আগে ছিল ৬৮ এমএসএল। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে গতকাল শুধুমাত্র ২ নম্বর ইউনিট চালু ছিল। এই ইউনিট থেকে ৪০ মেগওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে বলে জানান প্রকৌশলী মো. মাহমুদ হাসান।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, কেন্দ্রের সবগুলো ইউনিট সচল থাকলেও পানির অভাবে সবগুলো ইউনিট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। পানি স্বল্পতার কারণে ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ১টি ইউনিটে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট চালু অবস্থায় ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
সূত্রে জানায়, বর্তমানে লেকে পানি থাকার কথা ৮৫ দশমিক ৮০ মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু পানি আছে ৭৬ দশমিক ৮২ এমএসএল। ফলে পানি স্বল্পতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে ভারি বৃষ্টিপাত হলে লেকে পানি বাড়বে এবং একইসঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে।
প্রসঙ্গত, লেকে পানি স্তর ৬৮ থেকে ৬৯ এমএসএলকে বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। পানির লেভেল ৭০ এমএসএলের নিচে নেমে গেলে উৎপাদন সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে যাবে। কাপ্তাই লেকের পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
এদিকে, কাপ্তাই লেকে পানি কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি লেকের ওপর নির্ভরশীল মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।













