বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা চলাকালীন কথা কাটাকাটির জেরে বাঁশখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মা ও মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মামলা না করতে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার দুপুরে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মওলার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনার ভিডিও গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আহতরা হলেন ময়ুরা খাতুন (৫৫) ও তার মেয়ে রাবিয়া খাতুন (১৫)। ময়ুরা খাতুনের মাথায় চারটি এবং রাবিয়া খাতুনের মাথায় সাতটি সেলাই করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ময়ুরা খাতুন একই এলাকার আবুল হাশেমের স্ত্রী।
জানা যায়, গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চা দোকানি রাকিবের সঙ্গে মোরশেদুল ইসলাম ও তার সঙ্গীদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে গতকাল সকালে মোরশেদুল ও তার সহযোগীরা রাকিবের উপর হামলা চালায়। এ সময় প্রতিবেশীরা রাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো দা ও কুড়াল নিয়ে হামলা চালায়। এতে ময়ুরা খাতুন, তার মেয়ে রাবিয়া খাতুনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। হামলার পর অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ময়ুরা খাতুনের বাড়ির সামনে মোরশেদ ও হাবিব আমাকে মারধর করছিল। এ সময় ময়ুরা খাতুন এগিয়ে এসে তার বাড়ির সামনে ঝামেলা না করার জন্য তাদেরকে বারণ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ময়ুরা খাতুনের ওপর হামলা করে। মায়ের ওপর অতর্কিত হামলা দেখে মেয়ে রাবিয়া এগিয়ে আসলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসক তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
আহত ময়ুরা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আমার মা ও বোন কারও কোনো ক্ষতি করেননি। প্রতিবেশীকে হামলা থেকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তাদের অপরাধ। এজন্য তাদের দা–কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মাথা, কপাল ও মুখে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আমরা অসহায় মানুষ। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আজ (মঙ্গলবার) সকালে এলাকায় এসে মোরশেদ হুমকি দিয়ে গেছে–এ ঘটনায় মামলা করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে।
অভিযুক্ত মোরশেদ ও হাবিবের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বাঁশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে চায়ের দোকানে চিল্লাচিল্লি করছিল কিছু ছেলে। তখন তাদেরকে চিল্লাচিল্লি না করার জন্য বারণ করেন চা দোকানি। পরদিন চা দোকানির ওপর হামলা চালানো হয়। ময়ুরা খাতুন প্রতিবেশী চা দোকানিকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশের জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়েছি। মা–মেয়েকে লিখিত এজাহার জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।












