চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সনদ, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত নথি পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে চালু হয়েছে অনলাইনভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থা। নতুন এই ব্যবস্থায় বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে ফি পরিশোধের পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
গত বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের সিনেট কক্ষে ‘সিইউ সার্টিফিকেটস অ্যান্ড ট্রান্সক্রিপ্টস পোর্টাল’ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল ফোরকান পোর্টালটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে মোট ছয়টি ধাপে। দেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা বিকাশের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দিতে পারবেন। অন্যদিকে বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য অগ্রণী ব্যাংকের সুইফট কোড ব্যবহার করে বিদেশ থেকেই ফি পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পোর্টালটির মাধ্যমে সনদ, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এবং ভেরিফিকেশনের জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদন করার পর সেটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তাও অনলাইনে অনুসরণ করার সুযোগ থাকছে। একই সঙ্গে সনদ প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও পোর্টাল থেকেই তথ্য পাওয়া যাবে। তবে অনলাইনে আবেদন, ফি প্রদান ও প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন করার সুযোগ থাকলেও আপাতত সনদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হতে হবে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সনদ শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা এখনো চালু করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, এর মাধ্যমে শুধু সার্টিফিকেট নয়, সব ধরনের ডকুমেন্টের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে সনদ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে আসতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া বলেন, দেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীরাও এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। ছয়টি ধাপে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে আগের তুলনায় শিক্ষার্থীদের সনদ গ্রহণের প্রক্রিয়া অনেক বেশি সুবিধাজনক হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যাটফর্ম চালুর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সহজে সেবা পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম শিগগির আধুনিকায়ন ও অটোমেশনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল আমীন, উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সফিকুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, আইসিটি সেলের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ রোকন উদ্দীন ফারুকী প্রমুখ।











