নগরীর খুলশী থানার জালালাবাদ কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি ৮ তলা ভবনে অভিযান চালিয়ে ৭০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এসময় তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইন স্ক্যামিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য হতে পারেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে জালালাবাদের কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের ওই ভবনের আট তলায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিইউ) একটি দল ও থানা–পুলিশ ওই ভবনের আটতলায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৭০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১৭০টি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৮টি ল্যাপটপ ও ৬৫টি মোবাইল ফোন।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযান শেষ না হওয়ায় আটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক মাস ধরে আটতলা ওই ভবনে বিদেশি নাগরিকদের আনাগোনা ছিল। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ কার্যক্রম চলার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল। ডিভাইসগুলোতে আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ কিংবা অনলাইন কার্যক্রমের কোনো তথ্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিরা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন কি না, তাদের ভিসার ধরন কী এবং তারা কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত–এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তারা কী উদ্দেশে ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, তা যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, বিষয়টি অনলাইনকেন্দ্রিক হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা–নিরীক্ষা করছেন। অভিযান শুক্রবার (আজ) সকাল পর্যন্ত চলতে পারে। অভিযান শেষ হওয়ার পর যাচাই–বাছাই করে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
অভিযানে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশলকে অনলাইন স্ক্যামিং বলা হয়। সাধারণত প্রতারকরা ভুয়া পরিচয় ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। কখনো লোভনীয় অফার, চাকরির প্রস্তাব, বিনিয়োগে অতিরিক্ত লাভের আশ্বাস কিংবা জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই–মেইল, মোবাইল ফোন, ভুয়া ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এসব প্রতারণার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পুলিশের ধারণা, ডিভাইসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করা গেলে আটক ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।











