আবারও মূল ক্যাম্পাসে ফেরার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগরস্থ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এ দাবিেত গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এছাড়া পূর্বে আন্দোলনকারীদের নানাভাবে দমন–পীড়ন করা হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা। এই ব্যাপারে ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী খন্দকার মাসরুল আল ফাহিম আজাদীকে বলেন, পূর্বে যারা আন্দোলন করেছেন তাদের নানাভাবে দমন–পীড়ন করা হচ্ছে। ফলাফল দেরীতে দেওয়া হচ্ছে। অনেককে ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কম দেওয়া হচ্ছে। এগুলো এখানে থাকার কারণে সম্ভব হচ্ছে। আমরা মূল ক্যাম্পাসে ফেরত যেতে চাই। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি নানা অসঙ্গতি ও বৈষম্য করছেন শিক্ষকেরা। এসবের প্রতিবাদেই আমরা তালা দিয়েছি। আমাদের দাবি আদায় না হলে আন্দোলন চলবে। চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া জানান, যারা ফেল করেছেন এবং ফলাফল খারাপ হয়েছে, তারা তালা দিয়েছেন। তিনি বিষয়টি প্রক্টরকে জানিয়েছেন। প্রক্টর ব্যবস্থা নেবেন। বিশ্বাবদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর তানভীর হায়দার মোহাম্মদ আরিফ রাতে আজাদীকে বলেন, আমাকে ইনস্টিটিউটের পরিচালক জানিয়েছেন কিছু শিক্ষার্থী আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় অফিসে তালা দিয়ে চলে গেছে। তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি বা কোনো অভিযোগ দেয়নি। আমরা চারুকলার প্রশাসনকে বলেছি শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি–দাওয়া থাকলে আমাদের জানাতে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করতে। শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা অবশ্যই সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
জানা গেছে, মূল ক্যাম্পাসের ফেরার দাবিতে এর আগে দুইবার আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ১১ দাবিতে ২০২২ সালের নভেম্বরে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ইনস্টিটিউট নগর থেকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে তারা এক দফা দাবি দেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত বছর ২ ফেব্রুয়ারি চারুকলায় সশরীর শ্রেণি কার্যক্রম এক মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চারুকলা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ভবন সংস্কারের কথা বলে কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরও শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাসে ফেরার দাবিতে আন্দোলন করতে থাকেন। তবে একপর্যায়ে সেশনজট কমাতে গত বছর ৩ মে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল থেকে তারা আবার আন্দোলন শুরু করেছেন।














