চট্টগ্রাম বন্দরের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোড়াশালে বড় ধরনের একটি ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বছরে ১ লাখ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই আইসিডি ঢাকা অঞ্চলের কন্টেনার পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কন্টেনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) নতুন এই আইসিডি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। তবে প্রথম দফার দরপত্রে কেউ সাড়া দেয়নি। তাই শর্ত শিথিল করে দ্বিতীয় দফায় গতকাল দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দেশীয় কোম্পানি এককভাবে এবং বিদেশি কোম্পানি হলে দেশীয় কোম্পানির সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারে টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে।
সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিডিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রপ্তানি বাণিজ্যের শতভাগ কন্টেনার আইসিডিগুলোতে প্রস্তুত করে জাহাজিকরণের জন্য পাঠানো হয়। ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্য বোঝাই কন্টেনার আইসিডি থেকে খালাস করা হয়। আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যের কর্মযজ্ঞের একটি বড় অংশ আইসিডিগুলোতে স্থানান্তরিত হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের গতি বহুলাংশে বেড়েছে।
ঢাকা অঞ্চলের কন্টেনার বাণিজ্যে গতি আনতে সরকার আশির দশকের শেষ দিকে কমলাপুর আইসিডি নির্মাণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিনে কমলাপুর আইসিডির ওপর চাপ এত বেড়ে গেছে যে, ঢাকা অঞ্চলের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে ঢাকা অঞ্চলের মাত্র ৬ শতাংশ কন্টেনার কমলাপুর আইসিডি হ্যান্ডলিং করতে পারে। বাকি কন্টেনার সড়কপথে চট্টগ্রাম থেকে হ্যান্ডলিং হচ্ছে; যা কাজের গতি কমানোর পাশাপাশি ঢাকা– চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার গাজীপুরের ধীরাশ্রমে ২২২ একর জমিতে একটি আইসিডি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চীন সরকার এই প্রকল্পটির ব্যাপারে শুরুতে আগ্রহ দেখালেও পরে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার পর চীন আইসিডি নিয়ে বেশিদূর এগোয়নি। এছাড়া ধীরাশ্রমে আইসিডি নির্মাণ করতে হলে ২৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এতে আড়াই হাজার কোটির বেশি টাকা ব্যয় হবে শুধু ভূমি অধিগ্রহণ খাতে। যা প্রকল্পটির ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে।
এই অবস্থায় সরকার রেল মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সিসিবিএলের মাধ্যমে ঘোড়াশালে রেলওয়ের নিজস্ব জায়গায় একটি আইসিডি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। ঘোড়াশাল পৌরসভার ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন চামড়াবো থেকে ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত প্রায় ২০ একর জায়গায় ঘোড়াশাল ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তবে এই আইসিডি স্থাপনে সরকার কোনো অর্থ বিনিয়োগ করবে না। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার শুধু ভূমির সংস্থান করবে। আইসিডির ডিজাইন, নির্মাণ, অর্থায়ন, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেয়াদ শেষে সিসিবিএলকে হস্তান্তর করার (ডিবিএফওএমটি) শর্তে আইসিডিটি নির্মিত হবে। গত ১০ জানুয়ারি উপরোক্ত শর্তে ঘোড়াশাল আইসিডি স্থাপনের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ১১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত টেন্ডার ডকুমেন্টস বিক্রি করা হয়। ৩ মার্চ টেন্ডার দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ওইদিন টেন্ডার বাঙ খুলে দেখা যায়, ১৪টি টেন্ডার ডকুমেন্টস বিক্রি হলেও একটি দরপত্রও জমা পড়েনি।
এতে করে উক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া বেশিদূর এগোয়নি। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ ভাবনায় পড়ে। পরে দফায় দফায় বৈঠক করে টেন্ডারের শর্ত শিথিল করার পাশাপাশি মেয়াদও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম দফার টেন্ডারে ২৫ বছর পর আইসিডি ট্রান্সফার করার শর্ত ছিল। পরে তা ৩০ বছর করে আর্থিক বেশ কিছু শর্ত শিথিল করা হয়। অর্থাৎ যে প্রতিষ্ঠান আইসিডি নির্মাণ করবে তারা ৩০ বছর এটি ব্যবহার করার পর যে অবস্থায় থাকে ওই অবস্থায় রেলওয়েকে হস্তান্তর করবে।
নতুন করে টেন্ডার ডকুমেন্টস তৈরি করে গতকাল ঘোড়াশাল আইসিডির জন্য দ্বিতীয় দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এই টেন্ডারে কোনো বিদেশি কোম্পানি এককভাবে সরাসরি অংশ নিতে পারবে না। তবে দেশীয় কোম্পানির সাথে যৌথভাবে অংশ নিতে পারবে।
গতকাল থেকে টেন্ডার ডকুমেন্টস বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টেন্ডার ডকুমেন্টস বিক্রি হবে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি টেন্ডার দাখিল করতে হবে। ওইদিন টেন্ডার বাঙ খুলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে সিসিবিএলের কোম্পানি সেক্রেটারি রাকিবুল হাসান কমল বলেন, প্রথম টেন্ডারে কেউ অংশ না নেওয়ায় দ্বিতীয় দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়। আমরা বেশ কিছু শর্ত শিথিল এবং মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়েছি। শর্ত শিথিল করায় বেশ কিছু কোম্পানি অংশ নিতে পারেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।














