নগরীতে এক কলেজছাত্রকে নির্মাণাধীন একটি আটতলা ভবনের ছাদ থেকে লিফটের খালি জায়গা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। নগরীর চকবাজার থানাধীন ডিসি রোডের মৌসুমী আবাসিক এলাকার আমিন এন্ড হাসান ম্যানসন নামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। হতভাগ্য কলেজ ছাত্রের নাম আশফাক কবির সাজিদ (১৭)। তিনি নগরীর বিএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ওই কলেজ ছাত্রকে উদ্ধার করলে তার পরিচয় নিশ্চিত হতে বেশ সময় লাগে। চকবাজার থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে কেন এই হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি। পুলিশের ধারণা কিশোর গ্যাং, মাদক কিংবা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার শিকার হওয়া কলেজ ছাত্রের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ায়। তিনি বাকলিয়া এলাকায় একটি ব্যাচেলর মেসে বসবাস করতেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ, স্থানীয় সূত্র এবং মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় যে, কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালীর মগনামার দাতিনাখালী পাড়ার আবুল হাসেম সিকদারের পুত্র আশফাক কবির সাজিদ নগরীর বিএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। লেখাপড়ার সুবিধার জন্য তিনি ব্যাচেলর হিসেবে নগরীর বাকলিয়া শিশু কবরস্থানের পাশের কেএম মঞ্জিলের ৬ষ্ঠ তলায় ব্যাচেলর মেসে ভাড়ায় বসবাস করতেন। তার পরিবার চকরিয়ায় বসবাস করে।
গত ১২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমী আবাসিক এলাকার মোড়ে দেখা করতে বলে। ফারদিনের কথামতো আশফাক ওখানে যায়। তারা দুজনে বউবাজার যাওয়ার রাস্তার মুখে একটি টং দোকানের সামনে বসে কথা বলছিল। ওই সময় আইমন, অনিক, রানা প্রকাশ মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ ৫/৬ জন যুবক ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আশফাককে জোর করে নিয়ে যায়।

একপর্যায়ে ওই তরুণদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে আশফাক কৌশলে চকবাজার থানাধীন ডিসি রোডের মৌসুমী আবাসিক এলাকার আমিন এন্ড হাসান ম্যানসন নামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেয় এবং দৌঁড়ে ৮ম তলায় উঠে যায়। কিন্তু হামলাকারীরা ভবনটিতে চোর ঢুকেছে বলে গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে হামলাকারীরা ৮ম তলায় উঠে আশফাককে মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থান দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় আশফাক উক্ত ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় পড়েছিল। কেউ তাকে চিনতে পারছিল না। স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করলে চকবাজার থানা পুলিশ গুরুতরভাবে আহত আশফাককে অজ্ঞাত পরিচয়ের যুবক হিসেবে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আজাদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, আশফাকের পরিচয় শনাক্ত করতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। পরে আমরা তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করি। আমরা ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মামলার এক নম্বর আসামি, চকবাজারের দেওয়ানবাজার দুই নম্বর গলির পাশের ডিবি লালুর বাড়ির মৃত আবুল কাসেমের পুত্র আয়মান, চন্দনপুরার মাজার গলির নজিবুল্লাহ সওদাগর বাড়ির ফতেহ ইউনুছের পুত্র এনায়েত উল্লাহ, চকরিয়ার কোনাখালী এলাকার পুরুত্যাখালীর লাল মিয়ার বাড়ির সেকান্দর আহমদের পুত্র মিসকাতুল কায়েস এবং আমিন এন্ড হাসান ম্যানসনের দারোয়ান, মীরসরাইয়ের পশ্চিম দেওয়ার এলাকার মৃত ফয়েজ আহমদের পুত্র এনামুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি বাবুল আজাদ বলেন, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হত্যার কারণ প্রসঙ্গে নিশ্চিত হওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটির পেছনে কিশোর গ্যাং, মাদক কিংবা আধিপত্য বিস্তারের মতো কিছু আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছি। অচিরেই বিস্তারিত জানা যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিহত আশফাক কবির সাজিদের বাবা, মামলার বাদী আবুল হাসেম সিকদার বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। সে বিএফ শাহীন কলেজে পড়তো। লেখাপড়ার সুবিধার জন্য তাকে শহরে রাখা হয়েছিল। কেন তাকে হত্যা করা হলো তা আমি বুঝতে পারছি না। তিনি ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।














