কী বললেন মনজুর আলম, কী জানাল এনসিপি

বিডিনিউজ | শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে আসার পর থেকে জোর আলোচনা চলছে রাজনীতির অঙ্গনে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আবার রাজনীতিতে ফিরছেন মনজুর আলম। মেয়র পদে লড়তে পারেন এনসিপির প্রার্থী হয়ে। এমনকি চট্টগ্রাম মহানগরে এনসিপির হালও ধরতে পারেন।

এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর নেতারা বলছেন, মনজুর আলম তাদের দলীয় রাজনীতিতে ‘যুক্ত হচ্ছেন না’। তবে তিনি এনসিপি থেকে মেয়র পদে প্রার্থী হতে ‘রাজি’। অবশ্য তাকে প্রার্থী করা নিয়ে দলের ভেতরে এখনো দ্বিমত আছে। অন্যদিকে মনজুর আলম বলেছেন, মেয়র পদে নির্বাচনের বিষয়ে ‘এখনো কিছু ভাবেননি’ তিনি।

এসব বিষয়ে কথা বলতে মঙ্গল ও বুধবার চেষ্টা করেও সাবেক এই মেয়রের নাগাল পাওয়া যায়নি। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে টেলিফোনে তার সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

তার কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ আপনার সাথে দেখা করতে এসেছেন। এরপর থেকে আলোচনা হচ্ছে যে আপনি মেয়র পদে আবারও নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। কী বলবেন?’

জবাবে মনজুর আলম বলেন, ‘আমি কেন ইলেকশন করব? কে আমাকে ইলেকশন করাবে? আমি মূলত সমাজসেবার কাজ করি। তাই সবাই আমার কাছে আসে। কেউ দেখা করতে আসে। কেউ ভোট চাইতে আসে। কেউ উইশ করতে আসে। কেউ ভালোমন্দ জানতে আসে। আমি তো ৫৭ বছর মেয়র ছিলাম। আজ পর্যন্ত আমি ১২০টি প্রতিষ্ঠান করেছি। স্কুলকলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান করেছি। সেটা এক জিনিস।’

তাহলে মেয়র পদে নির্বাচন করার আলোচনা কীভাবে সামনে এল?

এমন প্রশ্নের উত্তরে হাস্যোজ্জ্বল মনজুর আলম বলেন, ‘এই যেমন এখন একটা পত্রিকা পড়ছি। সেখানে লিখেছে, আমার বাসায় হাসনাত আব্দুল্লাহ আসায় রাজনীতিতে নানা আলোচনা হচ্ছে। উনার লিখছেন।

নির্বাচন করব এটা আমি কাউকে বলিনি। আমি তো ঘরে বসে আছি। লোকজন আমার কাছে আসছে।’

২০১০ সালে বিএনপির মনোনয়নে মেয়র নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন মনজুর আলম। তারপর ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বার বিএনপির প্রার্থী হয়েও ভোটের দিন ‘কারচুপির’ অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন ও রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে মনজুর আলম বলেন, ‘শুধু বিএনপি কেন, সবাই আসেন। এলাকার মানুষ আসে। ধনী, গরিব, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী সবাই আসে। যতটুকু পারি কথা বলি। কুশল বিনিময় করি। শুধু ঈদে বা বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে আসেনএমন নয়, অন্য সময়ও আসেন। যেহেতু আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ৪১টি ওয়ার্ডের বিষয়ে আমার ধারণা আছে। কেউ সেসব বিষয়ে জানতে আসে। যেহেতু বৃদ্ধ হয়েছি, কেউ কেউ রাজনৈতিক আলোচনাও করে আমার সাথে।’

তাহলে কি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন? এনসিপির মহানগর কমিটিতে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন?

মনজুর আলম বলেন, ‘রাজনীতির পোর্ট ফোলিও আমার অতীতেও ছিল না। মেয়র নির্বাচনের পর ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) আমাকে অ্যাডভাইজার করেছিলেন। দুই দিন আমি অ্যাডভাইজরি কমিটির মিটিংয়ে গিয়েছিলাম।

এরপর কোনো রাজনৈতিক সভা সমিতিতে আমি ছিলাম না। কোথাও আমাকে দেখেছেন? হ্যাঁ, সামাজিক কাজকর্মে আমি গেছি। রাজনীতির আইডিয়া তো আমার নেই।’

রাজনীতির ধারণা না থাকলে মেয়র কীভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেনএমন প্রশ্নে মনজুর আলম বলেন, ‘মেয়র হয়েছি সামাজিক কাজকর্মের মাধ্যমে। আমি মানুষের কাছে গেছি সামাজিক কাজ নিয়ে। মানুষ আমাকে চেনে বলে ভোট দিয়েছিল। তুফাইন্যা (তুফানে উড়ে আসা) আর জোয়াইরগ্যা (জোয়ারে ভেসে আসা) মানুষ আসলে কী হবে? আবার ভাটাতে ভেসে যাবে।’

মেয়র পদে নির্বাচন করার বিষয়ে কী ভাবছেন প্রশ্ন করলে মনজুর আলম বলেন, ‘এখনো কিছু চিন্তা করিনি। সরকার এসেছে মাত্র দুই মাস। এখানে (চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন) এখনো কোনো নির্বাচনের কথাই তো সামনে আসেনি।’

মনজুর আলম নির্বাচনের বিষয়ে ‘চিন্তা করেননি’ দাবি করলেও ভিন্ন দাবি এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিনের।

গুঞ্জনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বিডিনিউজকে বলেন, ‘মনজুর আলম দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন এরকম না। তবে মেয়র প্রার্থী হতে পারেন। সেটা এনসিপি থেকে বা ১১ দলীয় জোট থেকেও হতে পারে। এ নিয়ে জোটের দলগুলোর সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। জামায়াতে ইসলামীর সাথেও আলোচনা করেছি। ১১ দলীয় জোট থেকে একজনকে মেয়র প্রার্থী করা যায় কিনা।’

মেয়র মনজুর আলমের সঙ্গে প্রার্থী হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা এবং তার মতামত কী জানতে চাইলে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘উনি রাজি। তা না হলে তো হাসনাত আব্দুল্লাহ ভাই উনার বাড়িতে যেতেন না।’

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ গত মঙ্গলবার নগরীর কাট্টলীতে মনজুর আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে আসেন। তারপরই জল্পনা ডালপালা মেলতে থাকে।

তবে মনজুর আলমের বিষয়ে এনসিপির ভেতরে মতভিন্নতা আছে জানিয়ে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘উনার অতীতের একটা রাজনৈতিক ক্যারেক্টার আছে। সেটা এবং উনি মেয়র প্রার্থী হলে আমরা যারা দীর্ঘদিন এনসিপির রাজনীতি করি, আমরা অনেকটা আড়ালে পড়ে যেতে পারি। এ দুটো বিষয় নিয়ে আমাদের লোকজনের মধ্যে এখনো ভিন্ন মত আছে। এখন পর্যন্ত কিছু চূড়ান্ত হয়নি।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরে ৩ লাখ শিশু পাবে হাম-রুবেলা টিকা
পরবর্তী নিবন্ধআটতলায় উঠেও নিজেকে বাঁচাতে পারল না কলেজছাত্র সাজিদ