ইঞ্জিন সংকট কমানো এবং যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংগ্রহ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় উঠতে যাচ্ছে।
অনেক আগে থেকেই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অবশেষে প্রকল্পটি আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে প্রতিটি মিটারগেজ ইঞ্জিনের দাম পড়বে ৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩০টি লোকোমোটিভ কিনতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৭০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিঃ মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মোঃ মহিউদ্দীন জানান, ইঞ্জিন সংকট কমানোর জন্য ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন সংগ্রহের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনেক দূর এগিয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মিটারগেজ ইঞ্জিন সংকটের কারণে পূর্বাঞ্চলে নিয়মিত ট্রেন চলাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন ঠিক মতো ছাড়তে পারছে না এবং গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না। এছাড়া যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাড়তি ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মালবাহী ট্রেন চলাচল প্রায় শূন্যের কোটায় এসে পৌঁছেছে। আগে চট্টগ্রামের গুডস পোর্ট ইয়ার্ড থেকে ৭ থেকে ৮টি মালবাহী ট্রেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করলেও এখন প্রতিদিন একটির মত ট্রেন চলাচল করছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) দেবে ১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা–চট্টগ্রাম, ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার, চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে নুতন ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। ট্রেনে যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা বাড়বে, সময় কমবে, পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবহন ব্যয় কমবে। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে দ্রততর, অধিক সাশ্রয়ী ও অধিক সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে, যা সড়ক পরিবহনের ওপর বিদ্যমান চাপ কমবে।
পাহাড়তলী বিভাগীয় চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী রাজেন্দ্র প্রসাদ ভৌমিক জানান, বর্তমানে রেলের বহরে মোট ইঞ্জিন রয়েছে ২৯৭টি। এর মধ্যে মিটারগেজ ইঞ্জিন ১৬৭টি ও ব্রডগেজ ইঞ্জিন ১৩০টি। রেলট্র্যাকে যুক্ত হওয়ার পর একটি ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয় ২০ বছর। ৫১ শতাংশ ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়েছে। অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল রয়েছে রেলওয়েতে এমন ইঞ্জিনের সংখ্যা ১৪৭টি। বাকি ১৫০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৫০টি ও ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রয়েছে ১৬টি। অবশিষ্ট ৮৪টি ইঞ্জিনের বয়স ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে ১১৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ু এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া ৬২টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের বয়স ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে, যা এখনো ট্রেন চালনায় ব্যবহৃত হয়। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং নির্ভরযোগ্যতা কম।












