মাত্র চার বছর আগে পুলিশের পোশাক গায়ে জড়িয়েছিলেন আল আমিন সরদার। জীবনের এই অল্প সময়েই দায়িত্ব, কর্তব্য আর পরিবারের স্বপ্নকে একসঙ্গে বয়ে চলছিলেন তিনি। কিন্তু ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় একটি বাসের ধাক্কা কেড়ে নিল সেই জীবন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে একদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গতকাল ভোরে চলে গেলেন ২৫ বছর বয়সী এই পুলিশ কনস্টেবল। পেছনে রেখে গেলেন স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে, যে সন্তানকে নিয়ে তিনি হয়তো প্রতিদিনই ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতেন। অপরাধী ধরতে গিয়ে আল আমিন সেই স্বপ্নের বহু উর্ধ্বে চলে যান, অসহায় করে যান স্ত্রী ও সন্তানসহ পুরো পরিবারকে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ইস্পাহানি চেকপোস্ট এলাকায় (নগরীর ওয়াসা মোড়ের সন্নিকটে) কর্তব্যরত ছিলেন আল আমিন। এ সময় সেখানে ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। ছিনতাইকারী ধরতে এগিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভর্তি করা হয় আইসিইউতে। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গতকাল ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
সিএমপি থেকে জানানো হয়েছে, আল আমিন সরদার সিএমপি পুলিশ লাইন্সের এসএএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন তিনি। চাকরিজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত আল আমিন সরদারের নিজ জেলা মাদারীপুর।
সিএমপি পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী কনস্টেবল আল আমিন সরদারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। কর্তব্যরত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তার এই আত্মত্যাগকে পুলিশ বাহিনীর জন্য বেদনাবিধুর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে সিএমপি কমিশনার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।











