চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে তাইওয়ান ও মানবাধিকার নিয়ে নিজেদের অবস্থানকে রেড লাইন (অলঙ্ঘনীয় সীমা) হিসাবে সতর্ক করে দিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং গতকাল এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানিয়ে দেন চীনের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের স্বার্থ লঙ্ঘন করা যাবে না এবং চারটি রেড লাইনকে কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। খবর বিডিনিউজের।
তাইওয়ান : চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। তাই এখানে মার্কিন সামরিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বেইজিং একদমই মেনে নেবে না।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকার : মানবাধিকার বা গণতন্ত্রের অজুহাত দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে চীন।
উন্নয়নের পথ ও ব্যবস্থা : চীনের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করার কোনও চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
উন্নয়নের অধিকার : চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্য যুদ্ধ চাপানো যাবে না।
অর্থাৎ রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং এটিই স্পষ্ট করেছেন যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বা অন্যান্য সহযোগিতা তখনই সম্ভব, যখন যুক্তরাষ্ট্র চীনের এই ৪ রেডলাইনকে সম্মান জানাবে এবং এই সীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করবে না।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি যুক্তররাষ্ট্র সফরের জন্য রওনা হওয়ার আগে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সরকারি পিপলস ডেইলিতে শিয়ে ফেং বলেন, পারস্পরিক মতপার্থক্য বা বিরোধ মেটানোর বিষয়টি সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। তাই চীনকে দমানোর বা আটকে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্য এবং জোরপূর্বক শ্রমের মতো ভুয়া অজুহাত তৈরি করা বন্ধ করা।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনের প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচা সংবর্ধনায় বরণ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং তাইওয়ান ইস্যুর মতো একাধিক জটিল বিষয় নিয়ে বিশ্বের এই দুই দেশের প্রধানরা বৈঠক করবেন। গতকাল অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে শি জিনপিংকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। আজ বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজে সামরিক ফ্লাইওভার ও প্রায় ৫০০ সামরিক সদস্যের উপস্থিতিতে আয়োজিত হবে বর্ণিল অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর শি জিনপিংয়ের এটি তার সঙ্গে তৃতীয় বৈঠক। পাশাপাশি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের আবহে আগামী নভেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যকার বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও শি–র মধ্যকার বৈঠকের পর এই চুক্তিটি হয়েছিল।









