বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ এলাকা। প্রতি বৎসর দেশের কোনও না কোনও এলাকা ঝড় বৃষ্টি বন্যা ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে জান মাল সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। এসব দুর্যোগ কবলিত এলাকায় সরকারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যক্তি সংগঠন সংস্থা রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন মানবিক মানবতার সাহায্য সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে এগিয়ে আসে। দেশের যে কোনও অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় চট্টগ্রামের অবদান সারা দেশব্যাপী প্রশংসনীয় কিন্তু চট্টগ্রামবাসির দুর্ভোগে অন্যদের হাত গুটিয়ে থাকা বিভিন্ন মহলে বিরূপ গঠন মূলক সমালোচনা ও শুনা গেছে যা কাম্য ছিল না। স্বাভাবিক ভাবে বলা হয় দুর্যোগ মোকাবিলা আসলে দুর্যোগ মোকাবিলা করার ক্ষমতা মানুষ রাখে না যার প্রমাণ বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে উন্নত অনেক রাষ্ট্র ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরম অসহায় হয়ে পড়ে। দুর্যোগ মোকাবিলা নয় দুর্যোগে সুরক্ষার আত্মরক্ষার ব্যবস্থা উপায় উদ্ভাবনই হচ্ছে সাময়িক নিরাপত্তার উত্তম পন্থা। চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রাম কক্সবাজার ফেনী নোয়াখালী কুমিল্লা বরিশাল সিলেট এসব অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে এতে ঘরবাড়ি ফসল প্রাণী মৎস্য সম্পদ যোগাযোগ অবকাঠামো ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্যোগে সামর্থ্যবানেরা সাময়িক কষ্ট কাটিয়ে উঠতে পারলেও গরীবদের পক্ষে সম্ভব হয় না। বন্যায় পানিবন্দিতে ধনী গরীব সকলে একাকার হয়ে যায় এ সময় বেশি প্রয়োজন খাদ্য পানি ঔষধ শিশু খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়। সরকারি বেসরকারি ত্রাণ বিতরণকারিরা আর্তমানবতার সেবায় যারা এগিয়ে আসে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সহজ পথে যাদের অবস্থান তারা দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী পেয়ে থাকে কিন্তু যাদের অবস্থান দুর্গম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে তারা সহজে ত্রাণ পায় না। এ বিষয়টি ত্রাণ বিতরণকারিদের খেয়াল রাখা জরুরি। আমার আলোচ্য বিষয় হচ্ছে অন্য প্রসঙে বারবার কেন এ দুর্ভোগ হয় এর কারণ উদঘাটন ও স্থায়ী প্রতিকার। দুর্যোগ প্রতি বৎসর হবে এমন নয় আবার হবে না এমন ও মনে করার কোন যুক্তি নেই। বর্ষার প্রারম্ভমে অথবা মধ্য সময়ে ভারী বা অতি বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ঢল খাল নদীর পানি উপচে পড়ে নিম্নাঞ্চল ডুবে যায় এতে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। সরকারি বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা বন্যার্তদের দুর্ভোগ সাময়িক লাঘব হলেও তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না যার ফলে পরবর্তীতে একই দুর্ভোগে বারবার ভুগতে হয়। আমরা জানি দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় রয়েছে তারা শুধু ত্রাণ বিতরণ ও সাময়িক পুনর্বাসনে তাদের কর্মকাণ্ড শেষ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে মানব সৃষ্ট দুর্ভোগ ও জনদুর্ভোগের জন্য দায়ী। খাল বিল নদী নালার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ দখল দূষণে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ নদী নালা দখল দুষণ মুক্ত সংস্কার প্রয়োজনে নতুন খাল নালা খনন যাতে পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে। অপরিকল্পিত ভাবে রেললাইন সড়ক রাস্তা নির্মাণের ফলে পানি দ্রুত নামতে পারে না বলে জলাবদ্ধতা থেকে বন্যার সৃষ্টি। ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় এগুলো চিহ্নিত করে প্রতিকারের উদ্যোগ নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। গ্রামে যাদের বাসস্থান অতি ঝুঁকিপূণর্, ঝুঁকিপূর্ণ, কমঝুকিপূর্ণ এ তিন ক্যাটাগরি ভাগ করে অগ্রাধিকার ভাবে অতি ঝুঁকিপূর্ণগুলো পর্যায়ক্রমে টেকসই উন্নয়ন করতে হবে প্রয়োজনে এসব কর্মকাণ্ডে বেসরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী জাকাতের অর্থ ও সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন উপজেলা প্রশাসন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বিতভাবে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলের অভিমত। দক্ষিণ চট্টগ্রাম কক্সবাজার টেকনাফ বান্দরবান এ অঞ্চলগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার বিপর্যস্ত হতে থাকে প্রতিবারই এ অঞ্চলের ধনী গরীব সকলে মানবিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অনেকে না চাইলেও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে নিতে হয়। আমাদের সংস্কৃতি খুবই অমানবিক সাহায্যের চেয়ে তার প্রচার প্রচারণা অধিক গুরুত্ব এবং বড় কৃতিত্ব বলে মনে করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপর দায়িত্ব অর্পণ না করে সেনাবাহিনীর দ্বারা গৃহনির্মাণ পুনর্নির্মাণ সংস্কার সামাজিক নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ আধুনিকায়ন আশ্রয়ণ শেল্টার ইত্যাদি গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা গতিশীল দুর্নীতিমুক্ত ও টেকসই হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে আত্নরক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করণে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সময়ের দাবি।
লেখক: প্রাবন্ধিক।










