ফের চালু হচ্ছে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা

সীমান্তের সমস্যা দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে, আশা দীনেশ ত্রিবেদীর

| শুক্রবার , ২৬ জুন, ২০২৬ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, আগামী ২৮ জুন থেকেই বাংলাদেশিরা আবার ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব শুরুর পরপরই যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে এসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দীনেশ ত্রিবেদী। এসময় তিনি অনুপ্রবেশকারীর তকমা দিয়ে মানুষজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া নিয়ে ভারত সীমান্তে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলোও দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করছেন দীনেশ ত্রিবেদী। খবর বিডিনিউজের।

ভারতের নতুন হাই কমিশনার বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমরা ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য স্বাভাবিক ভিসা আবেদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করছি, যা আগামী ২৮ জুন, রোববার থেকে জমা দেওয়া যাবে। মানবিক বিবেচনায় জরুরি ক্ষেত্রে মেডিকেল ভিসার সুবিধা আমরা অব্যাহত রাখব। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলোতেও এ কার্যক্রম চালু হবে। আমরা আশা করি, এর ফলে আমাদের দুই সার্বভৌম দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে, বলেন হাই কমিশনার।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর দৈনিক ঘোষণার ভিত্তিতে ভিসা কার্যক্রম বন্ধই রাখা হয়।

এদিকে অনুপ্রবেশকারীর তকমা দিয়ে মানুষজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া নিয়ে ভারত সীমান্তে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করছেন দীনেশ ত্রিবেদী। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় পরিচয়পত্র পেশের পর সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে হাই কমিশনারের সৌজন্য বৈঠক হওয়ার তথ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম।

বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সমস্যাসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক উদ্যোগের উপর রাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করেন। সীমান্ত সমস্যা সম্পর্কে হাইকমিশনার বলেন যে, সম্প্রতি বিএসএফ ও বিজিবির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে স্থানীয় ও উচ্চ পর্যায়ে এ ধরনের বৈঠক আরও নিয়মিত আয়োজনের উপর গুরুত্বারোপ করে সীমান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব বলেন, নবনিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে সাহাবুদ্দিন আশা প্রকাশ করেন যে, তার কর্মকাল বাংলাদেশভারত পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে। প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অংশগ্রহণের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে সরওয়ার আলম বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারত্ব বজায় রাখতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, আমাদের দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দময় সম্পর্ক বিদ্যমান, আর এটাই স্বাভাবিক।

দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের রাষ্ট্রপতির ও নেতৃত্বের শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বলে সরওয়ার আলম জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজুলাই স্মরণে জামায়াত জোটের ৩৬ দিনের কর্মসূচি
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে আরো ৫১ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি