এই বাজেট সবার জন্য

বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী । মূল্যস্ফীতি কমাতে নীতি বাস্তবায়নের ওপর ভরসা রাখতে চান । ঢাকার বাইরে হচ্ছে পর্যটন হাব । সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে

আজাদী ডেস্ক | শনিবার , ১৩ জুন, ২০২৬ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সীমিত সম্পদের মধ্যে সব মানুষকে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আওতায় আনার কথা বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সবার জন্য এই বাজেট। সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। বিএনপির নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার মাস চারেক পর দেওয়া এ বাজেটের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, সবার জন্য ইনক্লুসিভ বাজেট করতে হয়েছে। গত দেড় দশক আমাদের অর্থনীতি ছিল পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি। কিছু মানুষের অর্থনীতি। নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে, একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা আমাদের অর্থনীতির ভাবনায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। সেই ভাবনা থেকে সীমিত সম্পদের মধ্যে সবার জন্যই এই বাজেট দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমাতে নীতি বাস্তবায়নের ওপর ভরসা রাখতে চান অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের বেতন কাঠামো সমন্বয়ের উদ্যোগ দুর্নীতি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া ঢাকার বাইরে পর্যটন হাব হবে বলে জানান তিনি। খবর বিডিনিউজের।

রাজধানীর সচিবালয় এলাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৩টা ১০ মিনিটে আসেন অর্থমন্ত্রী। তার ডান পাশে বসেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাম পাশে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, এনবিআরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট ভিন্নধর্মী বাজেট; প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ভাবনাদর্শন ভিন্ন। দেড় দশকে দেশের ভিতরে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু ঘটছে। একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে। এখন চলছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এমন বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আমাদের চ্যালেঞ্জ আরও বেশি। আর এই প্রেক্ষাপটেই সবাইকে বাঁচিয়ে রেখে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেট দেওয়া হয়েছে।

দেশের সীমিত সম্পদের কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, যে কারণে আমরা বারবার বলেছি, আমাদের ব্যয়গুলো হবে, প্রত্যেকটি ব্যয়ের পিছনে, প্রত্যেকটি প্রকল্পের পিছনে আমরা ক্রাইটেরিয়া ফিঙড করছি, চারটা ক্রাইটেরিয়া। একটা হচ্ছে ভ্যালু ফর মানি, একটা হচ্ছে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, একটা হচ্ছে জব ক্রিয়েশন, একটা হচ্ছেএই চারটা ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে আমরা আগামী দিনে সকল প্রকল্পপরিষ্কারভাবে বলি।

এরপর সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রশ্ন আহ্বান করে তিনি বলেন, আমরা আসছি কিন্তু আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। যে কারণে আমরা বিশ্বাস করি যে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জবাবদিহিতা। জনসাধারণের কাছে জবাবদিহি করা।

মূল্যস্ফীতি কমাতে নীতি বাস্তবায়নের ওপর ভরসা রাখতে চান : কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতির ধকলের মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষকে স্বস্তি দিতে নীতি বাস্তবায়নের ওপর ভরসা রাখতে চান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের পলিসিগুলো যদি আমরা ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারি, আমি মনে করি, আমাদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হবে আমি মনে করি না।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যের কথা বলেছেন তিনি। সবশেষ মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাড়ে ৯ শতাংশের কাছাকাছি চলে গেছে।

বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমানোর পদক্ষেপ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতিটা গত বেশ কয়েক বছর ধরে বাড়তে বাড়তে ৯এর উপরে তিন বছর ধরে চলছে। এর সাথে যোগ হয়েছে আপনার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের বিষয়টা। আপনারা জানেন ব্যাংকগুলোতে যেহেতু বিরাট একটা মূলধন ঘাটতি রয়ে গেছে লুটপাটের কারণে, ঋণ নেওয়ার কারণে, যে কারণে তহবিল খরচ কিন্তু অনেক বেশি রয়ে গেছে। এটার প্রতিফলন কিন্তু মূল্যস্ফীতিতে পড়ছে। আমদানিকৃত যে পণ্যগুলো সবগুলোর দাম বাড়ছে, বিশ্ববাজারে বাড়ছে, যুদ্ধের কারণে আরো বাড়ছে। সুতরাং আমরা আশা করছি যে আগামী দিনে আমরা যে রিফর্মের কথাগুলো বলেছি, সংস্কারগুলোর মাধ্যমে ব্যবসার খরচ আমরা কমানোর চেষ্টা করছি। আপনারা লক্ষ্য করবেন আমাদের দেশে এই যে একটা ব্যবসা করতে গেলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে খরচটা আসে, এটা কিন্তু আপনার মূল্যস্ফীতিতে যোগ হয়।

ব্যবসার খরচ বাড়ার ব্যাখ্যা করে আমির খসরু বলেন, অনেকগুলো সময় নষ্ট হয় এবং অনেকগুলো জায়গায় তাদেরকে খরচ করতে হয়, এদিকসেদিক যেয়ে, বলতে চাচ্ছি না, খরচ করতে হয় এটা তো সত্যি কথা। দ্বিতীয়ত, আমাদের দেশে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালগুলো খালাস হয়, পোর্টে ফর এঙাম্পল ওখানে একটু সময় নষ্ট হয়। ওখানেই অধিক খরচ তাদেরকে করতে হয় বিভিন্ন কারণে। মাল খালাস থেকে শুরু করে সরবরাহ নেওয়া পর্যন্ত বা পরিবহন পর্যন্ত অনেক বেশি খরচ হয়।

এভাবে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাচ্ছে তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবকিছু মিলিয়ে আমাদের যে মূল চেষ্টাটা হচ্ছে, বাইরের যে প্রভাবগুলোর কারণে যে মূল্যস্ফীতি হয়, এটা আমাদের কিছু করার থাকে না। চেষ্টা করতে হবে এই পরিস্থিতিতে আমাদের খরচটা কীভাবে কমিয়ে আনতে পারি ব্যবসার ক্ষেত্রে।

ইতোমধ্যে তেলের মূল্য, গ্যাসের মূল্য ইত্যাদির কারণে মূল্যস্ফীতিতে আবার প্রভাব পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, তেলের মূল্য বাড়ানো মানে পরিবহন মূল্য বাড়বে এবং সব ক্ষেত্রে এটার একটা প্রতিফলন পড়বে। সুতরাং বাইরের যে মূল্যস্ফীতিটা আসছে (আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি) এটাকে আমাদের মোকাবিলা করা কঠিন। কিন্তু আমাদের অভ্যন্তরীণ যে জায়গাগুলো নিয়ন্ত্রণ করলে আমাদের ব্যবসার খরচ কমবে।

ব্যবসার খরচ ও ব্যবসা সহজ করার সূচকে বাংলাদেশ একদম তলানিতে তুলে ধরে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা সহজ করার সূচকে তলানির অর্থ হলো ব্যবসা করার খরচও ঊর্ধ্বমুখী। সুতরাং আমরা অ্যাড্রেস করতেছি এই জায়গাগুলোকে। আপনি কালকে বক্তৃতায় খেয়াল করেছেন, অনেকগুলো ডিরেগুলেশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় খরচ কমিয়ে আনার জন্য আমরা অনেকগুলো পদক্ষেপ নিচ্ছি। এই পদক্ষেপগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে পারি, আমাদের ইন্টারনালি কস্ট অফ ডুয়িং বিজনেসটাকে যদি আমি কমাইয়া আনতে পারি, এটার একটা প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে আগামী দিনে পড়বে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ : পণ্য সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য উৎস থেকে গন্তব্য পর্যন্ত বৈশ্বিক মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া নজরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা শুধু বিশেষ প্রয়োজনে কেনাকাটা না করে আমাদের একটু দীর্ঘমেয়াদি কেনাকাটা প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। যেমন, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমাদের কমপক্ষে তিন মাসের জ্বালানি রিজার্ভ থাকতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আমাদের কমপক্ষে এই ধরনের একটা সময় থাকতে হবে। সার, সবকিছুতেই একটা

জ্বালানির ক্ষেত্রে স্পট বায়িং বা জরুরি ভিত্তিতে নগদ মূল্যে কেনার উদাহরণ দিয়ে আমির খসরু বলেন, স্পট বায়িংয়ে তো আপনি জানেন, আপনার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই দামের ওপরে। আপনাকে যা বলছে, তাই কিনতে হবে দুই ঘণ্টার নোটিসে, তিন ঘণ্টার নোটিসে আপনাকে কিনতে হবে।

তেলগ্যাস, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় কেনাকাটার ক্ষেত্রে যথাযথ অবকাঠামো থাকার বিষয়েও জোর দেন তিনি। তাতে খরচ অনেক কমে আসবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তার মতে, বন্দরে দক্ষতা, স্বচ্ছতার আনার মাধ্যমে খরচ কমানো সম্ভব। খরচ কমাতে এভাবে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রীর মতে, মূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজার নিয়ন্ত্রণ পুলিশ দিয়ে, র‌্যাব দিয়ে, সরকারি লোক দিয়ে মূল্য কারসাজি নিয়ন্ত্রণ হবে না। আপনাকে মূল্য নিয়ন্ত্রণটা করতে হবে নীতির মাধ্যমে। এবং আপনার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। সুতরাং আমাদের পলিসিগুলো যদি আমরা ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারি, আমাদের ইনফ্লেশন কন্ট্রোল করা খুব কঠিন হবে বলে আমি মনে করি না।

ঢাকার বাইরে পর্যটন হাব হচ্ছে : পর্যটক টানতে ঢাকার বাইরে একটি হাব তৈরির কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী, যেখানে থিয়েটার থেকে শুরু করে বিনোদনের সব ধরনের ব্যবস্থা থাকবে। বিদেশি পর্যটক আসে না। এর জন্য খুব বেশি চিন্তার কোনো কারণ নাই। দেশের যে পর্যটক আছে এদের যদি আমরা পরিচর্যা করতে পারি, আমাদের অর্থনীতিতে বিশাল একটা ভূমিকা রাখবে।

বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ থেকে পর্যটন খাতও চাইলে অর্থ পাবে। এছাড়া সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। পর্যটনকে উৎসাহিত করতে এ খাতকে সৃজনশীল অর্থনীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা প্রস্তাবিত বাজেটে তুলে ধরেছেন তিনি।

দেশে বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে, ঢাকায় যদি বলি, এখানে আমাদের বিনোদনের কোনো জায়গা নেই। আমাদের বিনোদন হচ্ছে, কারো বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়া অথবা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ডিনার করা। এজন্য বিনোদনের যে বিষয়টা, এটা সৃজনশীল অর্থনীতির মধ্যে আমরা অন্তর্ভুক্ত করেছি। অর্থাৎ পর্যটনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে এটা পরবর্তীতে। এইটার জন্য আমরা অনেকগুলো কাজ হাতে নিয়েছি। ঢাকার বাইরে আমরা একটা হাব করছি, যেখানে থিয়েটার থেকে শুরু করে সব ধরনের এন্টারটেইনমেন্ট থাকবে। বিকালে গেলে যাতে পুরো সন্ধ্যাটা কাটানো যায়। থিয়েটার দেখতে চান, না স্ট্যান্ডআপ কমেডি চান, না ডিজাইনার শপে যাবেন, না ফাইন ডাইনিংয়ে যাবেন, নাকি আর্টিস্টদের, পেইন্টারদের শপে যাবেন?

বিদেশে বিনোদনের ব্যবস্থা থাকার প্রসঙ্গ টেনে আমির খসরু বলেন, যেকোনো দেশে, লন্ডনে যদি আপনি থিয়েটার ডিস্ট্রিক্টে যান, দিনের শেষে দেখবেন একটা লোক এক হাজার ডলার খরচ করে বাড়ি চলে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, এটাকে আমাদের মনেটাইজ করতে হবে। আপনি যদি কোনো কালচারকে মনেটাইজ করতে না পারেন, সেটা কিন্তু টিকে থাকে না। এটা থেকে একটা আয় হতে হবে। যারা আমাদের দিচ্ছে তাদেরও আয় হতে হবে, যারা যাচ্ছে তারা বিনোদন পাবে।

দেশের সংগীতের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কি সুরের অভাব আছে? আমাদের পল্লীগীতি আছে, লালন গীতিঅনেক মিউজিক। কিন্তু আমরা মনেটাইজ করতে পারিনি কোনোদিন। আমাদের পাশের দেশে সব মনেটাইজড। ফিল্ম ইজ মনেটাইজড, থিয়েটার ইজ মনেটাইজড। লন্ডনে যান, এভরিথিং ইজ মনেটাইজড। সৃজনশীল অর্থনীতিতে যে কাজটা আমরা করতে চাচ্ছি, ঢাকাসহ দেশের সব জায়গায় এই সুযোগগুলো তৈরির জন্য একটা বড় উদ্যোগের কাজ শুরু করেছি। ৮০০ কোটি টাকা দিয়ে আমরা শুরু করছি এই কাজটা, যেটা কোনোদিন বাংলাদেশে কেউ চিন্তাও করে নাই।

বাংলাদেশে ধর্মীয় পর্যটনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় পর্যটন হতে পারে। বৌদ্ধদের অনেক কিছু আছে। যারা এখানে আসবে, এগুলোকে আমরা কোনোদিন রিস্টোর করি নাই। কোনোদিন এই সাইটগুলোকে ওইভাবে ডেভেলপ করি নাই। ওইখানে কোনো অবকাঠামো তৈরি করি নাই। আমাদের এই তালিকার মধ্যে সেটাও আছে।

দেশীয় সঙ্গীতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আমির খসরু বলেন, সুরের কোনো সীমানা নাই। আমরা সারা দুনিয়ার সব গান শুনছি না? এখন তো কোরিয়ান গান, কোরিয়ান থিয়েটার সব চলছে। আমরা এটাকে মনেটাইজ করতে পারি নাই। আমাদের যে সুযোগগুলো আছে, এটাকে কাজে লাগানোর জন্য সৃজনশীল অর্থনীতিটা আমরা শুরু করেছি।

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে : বাংলানিউজ জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের বেতন কাঠামো সমন্বয়ের উদ্যোগ দুর্নীতি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়নি, অথচ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এ বাস্তবতায় বেতন সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষের অভাবঅনটন থাকলে দুর্নীতির দিকে ঝোঁকার প্রবণতা তৈরি হয়। সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের প্রায় ১১ বছর ধরে নতুন পেস্কেল হয়নি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তাই তাদের আয়ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষায় সমন্বয় প্রয়োজন। এতে দুর্নীতির প্রবণতাও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ২২ বছর পর আজ কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী