কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকায় কিশোর ছেলের সামনে সানজিদা আক্তার রেশমি নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে নিজ বাসার ভেতরে হামলার শিকার হওয়ার পর গুরুতর অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত রেশমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শফিউল আলম সওদাগরের মুদি দোকান থেকে বাজার করতেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে এমন সন্দেহে শফিউল আলম সওদাগরের স্ত্রী ইয়াসমিনসহ আরও কয়েকজন নারী মঙ্গলবার রাতে রেশমির বাসায় যান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেশমির ওপর হামলা চালান। এ সময় রেশমির ছেলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়রা কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে গুরুতর আহত রেশমিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে সাব্বির জানায়, ঘটনার সময় সে ও তার মা বাসায় ছিলেন। এছাড়া আরও দুজন পুরুষ সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে একজনকে সে শফিউল আলম সওদাগর হিসেবে চিনতে পেরেছে। পরে কয়েকজন নারী বাসায় ঢুকে তার মায়ের ওপর হামলা চালায় এবং ছুরিকাঘাত করে।
নিহতের গৃহকর্মী আনোয়ারা বেগম বলেন, পূর্বের পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকজনের প্ররোচণায় সংঘবদ্ধভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। প্রতিবেশী সোহাগ জানান, চিৎকার–চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
স্থানীয় ডালিম ও রিয়াদ জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে অবহিত করেন এবং আহত রেশমিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। নিহতের নিকটাত্মীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় স্থানীয়রাই উদ্ধার কার্যক্রমে এগিয়ে আসেন। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে উপস্থিত নিহতের সাবেক স্বামী ইমন বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করেছে। তিনি বলেন, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে–রেশমির সঙ্গে শফিউল আলম সওদাগরের সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন তার স্ত্রী ইয়াসমিন। এ সন্দেহের জেরে ইয়াসমিন আরও কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে রেশমির বাসায় যান। সেখানে রেশমির সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ইয়াসমিন ছুরিকাঘাত করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।












