মানুষকে সচেতন করতে না পারলে হাসপাতালে ডায়ালাইসিস মেশিন সংযোজনেও কিডনি রোগীর সমস্যা সমাধান হবে না

সেমিনারে জেলা প্রশাসক

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৮ জুন, ২০২৬ at ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, কিডনি রোগীরা খুব অসহায়। ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ কিডনি রোগের মতো মারাত্মক জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যারা কিডনি রোগে আক্রান্ত তাদেরকে সুচিকিৎসার মাধ্যমে কিভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায়, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ইতোমধ্যে যারা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েছে, তাদেরকে কিভাবে সাপোর্ট দেয়া যায়, আর যারা আক্রান্ত হয়নি, তাদের জন্য কি করা যায়সে বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিডনি রোগের মত জটিল রোগ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করতে চাই। ভেজাল খাবার ও ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি কিডনি রোগ প্রতিরোধে সর্বত্র জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত ‘কিডনি রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। মানুষকে সচেতন করতে না পারলে হাসপাতালে বেশি বেশি করে ডায়ালাইসিস মেশিন সংযোজন করলেও কিডনি রোগীর সমস্যা সমাধান হবে না। কিডনির সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও সঠিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে ভেজাল খাবার পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আগামীতে মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের মানুষকে সুস্থ রাখতে হবে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, কিডনি বিষয়ে আসলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, আমাদের সচেতনতা। আমাদের সচেতন হতে হবে। কিডনি ঠিক রাখার জন্য আমাদের বেশি করে পানি পান করা উচিত। কিনআমরা পানি খাই না। যখন প্রয়োজন একটু তৃষ্ণা লাগে, তখনই খাই। আরেকটা বিষয় হলোআমাদের কোথাও না কোথাও আরম্ভ করতে হবে। আরম্ভ করলে আমরা শেষ করতে পারবো সেটা না। আমি যেখানে যাই সেখানে একটা কথা বলি, লেটস স্টার্ট।

স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। পরিবারের পক্ষে অনেক সময় ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে যায়। সামষ্টিক সহায়তা ছাড়া কিডনি রোগীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কখনই সম্ভব নয়। ফলে যেসব রোগীর ডায়ালাইসিসের বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয় তাদের সীমাহীন কষ্টের শিকার হতে হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার। সেমিনারে কিডনি রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন সিএমপি’র উপপুলিশ কমিশনার আবু বক্কর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল হুদা, কিডনি ফাউন্ডেশনের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নির্বাহী কমিটির সভাপতি সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন, জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নুরুল ইসলাম, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারহান ইসলাম, চমেক হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সদস্য জিয়াউদ্দীন খালেদ চৌধুরী প্রমুখ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও লেগুনাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধঅনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে চমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা