ভারত সরকারকে তাদের সবগুলো দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের জন্য এটি একটি নতুন সকাল। তাদের আন্দোলনের ফলে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর এখন বিশ্রামের সময়, আর পুরো ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা অভিজিৎ (৩০) এখন তা–ই করছেন। গতকাল রোববার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, এরপর কী করব বা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে, তা নিয়ে চিন্তা না করেই আমি আমার ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছি আর সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। কোনো আতঙ্ক নেই। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন ‘অনেক, অনেক কঠিন’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এরপর সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুসারীদের তিনি বলেন, এটি সবে শুরু। ককরোচ জনতা পার্টিকে অনেক দূর যেতে হবে। খবর বিডিনিউজের।
মে মাসে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রতিষ্ঠা করেন দীপকে। এটি ছিল ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই এটি একটি আন্দোলনে পরিণত হয় আর তা পরবর্তী ৭০ দিনের মধ্যে ভারতের জেন জি শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। দ্রুতই হাজার হাজার ‘তেলাপোকা’ (সিজেপির সমর্থকরা নিজেদের এ বলেই পরিচয় দেন) ভারতের রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলের যন্তর মন্তরে গিয়ে জমায়েত হয় আর ‘ইনকিলাব’ শ্লোগান তোলে। যন্তর মন্তর ভারতের ক্ষমতার কেন্দ্রের দিকে মুখ করে থাকা একটি প্রতীকী প্রতিবাদস্থল। শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রতিবাদকারীরা নিট প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ড আর শিক্ষার্থীদের আত্মহননের জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী হিসেবে তুলে ধরে। তারা ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের দাবি করতে থাকে। দাবি মানতে সরকার যত দেরি করছিল সিজেপির সমর্থকের সংখ্যা তত বাড়ছিল। গত শনিবার ধর্মেন্দ্র পদত্যাগ করেন। সরকার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিন্তু এটা সহজ ছিল না। দীপকে তার বার্তায় এটি উল্লেখ করে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করা সত্ত্বেও যারা তার সিজেপিকে সমর্থন জানিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। টাইফয়েডে আক্রান্ত ও জ্বর থাকায় তিনি শনিবার যন্তর মন্তরে সবাইকে ‘ধন্যবাদ’ জানাতে না পারার জন্য ‘ক্ষমা’ চেয়েছেন।









