২০-২৫ পয়েন্টে ব্যারিকেড, তিন ইউনিয়নে হরতাল

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর নিয়ে বিরোধ হরতালের প্রতিবাদে ভূজপুরে সমাবেশ

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি | সোমবার , ২৭ জুলাই, ২০২৬ at ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় নির্ধারণের গেজেটকে কেন্দ্র করে তিন ইউনিয়নে ৪৮ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিন গতকাল পালিত হয়েছে। সদর দপ্তর স্থানান্তরের দাবিতে তিন ইউনিয়নে চলছে সর্বাত্মক হরতাল ও অবরোধ। অপরদিকে সরকারের গেজেটকে স্বাগত জানিয়ে এবং হরতালের প্রতিবাদে ভূজপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণমিছিল ও সমাবেশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতাল সমর্থকরা বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট এলাকার প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তাঘাট অচল করে দিয়েছে। কিছু জায়গায় পিকেটারদের উপস্থিতি থাকায় জরুরি যাতায়াতের গাড়ি ছাড় দেওয়া হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোনো মানুষ ছিল না। সেখানে বড় বড় কাঠের টুকরো এবং ভাঙা মোটরসাইকেল ফেলে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। ফলে অ্যাম্বুলেন্স, গুরুতর রোগী, পুলিশের গাড়ি, এমনকি সংবাদকর্মীদের গাড়িও বাধার মুখে পড়ে। কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। হরতালকারীদের ‘জরুরি সেবা ও শিক্ষার্থীদের ছাড় দেওয়া হবে’ এমন ঘোষণার বাস্তব কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। সড়কের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে আটকে পড়ে ক্ষোভ ও দুর্ভোগের কথা জানান সাধারণ যাত্রীরা।

এদিকে তিন ইউনিয়নের হরতালকে অযৌক্তিক ও উন্নয়নবিরোধী আখ্যা দিয়ে এবং নতুন উপজেলা গঠনকে স্বাগত জানিয়ে ঘটনার দিন বিকালে ভূজপুরে সমাবেশ ও শান্তিপূর্ণ গণমিছিল হয়। এতে ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি এবং নারায়ণহাট ও সুয়াবিল এলাকার আংশিক অঞ্চলের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় সদর দপ্তর নির্ধারণ করা দূরদর্শী ও ভৌগোলিক দিক থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত। একটি গোষ্ঠী ব্যক্তিগত স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ঢাল বানিয়ে ফটিকছড়ির শান্তি ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন হারুয়ালছড়ির ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী, ভূজপুরের ইউপি চেয়ারম্যান এসএমএইচ শাহজাহান চৌধুরী শিপন, মাওলানা জুনাইদ বিন জালাল, মাহবুবুল আলম আজাদ, জামাল উদ্দিন সিকদার, ইয়াকুব শহিদ, জহির উদ্দিন বাবর, খোরশেদুল আলম আজাদ, আজগর সালেহী, এসএম নজরুল ইসলাম, ডাক্তার আবুল কালাম রুবেল, মামুন বশর ভূইয়া, এমদাদ হাসান, এম নিজাম উদ্দিন ও মুহিব্বুল্লাহ আমিনী।

দাঁতমারানারায়ণহাটে সাংবাদিকদের বাইক আটকে হেনস্তা : গতকাল হরতালের প্রথম দিনে উপজেলার দাঁতমারা, শান্তিরহাট বাজার ও হালদা ভ্যালী চা বাগান সংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্টে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়েন মাঠপর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীরা। এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, সকাল থেকে ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইসলামপুর, শান্তিরহাট বাজার এবং নারায়ণহাট হালদা ভ্যালী চা বাগানের মোড় এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ এবং ছবি ধারণ করতে যান বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। হরতাল সমর্থকরা সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ তৈরি করলে সাংবাদিকরা নিজেদের পেশাগত পরিচয় ও আইডি কার্ড প্রদর্শন করে মোটরসাইকেল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পরিচয় দেওয়ার পরও আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল আটকে দেয়। শান্তিরহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল আটকে পথরোধ করা হয়। এ সময় পিকেটাররা কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দায়িত্ব পালনে বাধা না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।

হাটহাজারী সার্কেলের এডিশনাল এসপি তারেক আজিজ বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। জরুরি সেবা কয়েক স্থানে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে বলে খবর পেয়েছি। আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে জরুরি সেবার গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেছি। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার নিয়ম নেই। ভিডিও ফুটেজ থেকে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপদত্যাগী রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার কিছু নাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধসবে শুরু, অনেক দূর যেতে হবে : অভিজিৎ দীপকে