কালবৈশাখীর ছোবলে মীরসরাই উপজেলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ফলন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আতংকগ্রস্ত রয়েছে নিচু এলাকার কৃষক। গত মঙ্গলবার এবং গতকাল বুধবার দুদিনের কালবৈশাখী ঝড়, লাগাতার বৃষ্টিপাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে সমস্যায় পড়েছে স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, কালবৈশাখী ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রসহ স্কুল–কলেজগুলোকে পরীক্ষার্থীদের বিঘ্ন ঘটছে। ঘন কালো মেঘে দিনেদুপুরে অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। কারণ কেন্দ্রগুলোর সকল কক্ষে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর না থাকায় চিকিৎসকরা মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগীদের জরুরি সেবা প্রদান করছেন বলে জানা গেছে। হাসপাতালের ইপিআই কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, জেনারেটরটি দুই বছর ধরে নষ্ট থাকায় এবং তেলের পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় তারা বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারেননি। এছাড়া চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখা গেছে। কাটাছরা গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান জানান, তার দেড় একর বোরো ধান আর কদিন পর ওঠার কথা।
কিন্তু এভাবে লাগাতার বৃষ্টি হলে ধানগুলো ঘরে তোলা সম্ভব হবে না। কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, গত দুদিনের বৃষ্টিপাতে উপজেলার প্রায় ১৮০ হেক্টর বোরো শুয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এসব ক্ষেতের ফলন ক্ষতি হতে পারে। আবহাওয়ার উন্নতি ঘটলে আশা করা যাচ্ছে কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–৩ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ে কোনো খুঁটি না ভাঙলেও ৩০টিরও বেশি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে, যার ফলে উপজেলার ৫০–৫৫ ভাগ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
মীরসরাই জোনাল অফিসের ডিজিএম আদনান জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ লাইন সচল করা সম্ভব হবে।














