৮২ দিন পর দেশে ফিরলেন ১৫ নাবিক

থাইল্যান্ডে জাহাজডুবির ঘটনা

| শুক্রবার , ১ মে, ২০২৬ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

কনটেইনার নিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে ডুবে যাওয়া ‘এমভি সীলয়েড আর্ক’ জাহাজের ১৬ বাংলাদেশি নাবিকের মধ্যে ১৫ জন দেশে ফিরেছেন প্রায় ৮২ দিন পর। তারা ইন্ডিগো এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। এ সময় তারা ছিলেন আবেগাপ্লুপ্ত।

নাবিকদের দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, নাবিকদের দেশে ফেরা একটি অত্যন্ত স্বস্তির ও আনন্দের সংবাদ। জাহাজের মাস্টার আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আরো কিছু দিন থাইল্যান্ডে অবস্থান করবেন। মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে জাহাজটি। ফুকেট উপকূল থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে সমুদ্রে জাহাজটি ডুবতে দেখে থাই নেভি নাবিকদের উদ্ধার করে।

তবে আইনি জটিলতার কারণে থাই পুলিশ তাদের প্রত্যাবাসনের অনুমতি দিচ্ছিল না। এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন জানার পর থেকেই সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন, সংশ্লিষ্টরা সময়ে সময়ে তথ্য দিয়ে অ্যাসোসিয়েশনকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়াও আমরা সিফেয়ারারদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে আসছিলাম। অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সরাসরি ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের (আইটিএফ) মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে অনুরোধ জানায়। একই সাথে জাহাজের টেকনিক্যাল ম্যানেজার নাফ মেরিন সার্ভিসেসের সিইও ক্যাপ্টেন মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে আইনি বাধা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। খবর বাংলানিউজের।

সূত্র জানায়, জাহাজটি গত ৫ ফেব্রুয়ারি পোর্ট কেলাং থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অভিমুখে রওনা দিয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর শিডিউল ছিল। জাহাজটিতে ৪০ ফুট দীর্ঘ ১০১টি এবং ২০ ফুট দীর্ঘ ৯৬ কনটেইনার লোড ছিল। এই জটিল আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জাহাজ মালিকদের সংগঠন পিঅ্যান্ডআই ক্লাব নাবিকদের বিমা সংক্রান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং মানবিক সহায়তা দিতে সক্রিয় ছিল। জধলধয ্‌ ঞধহহ (ঞযধরষধহফ) থাইল্যান্ডের স্থানীয় আইন ও পুলিশের জটিলতা নিরসনে তারা বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিয়েছে। বেন লাইন এজেন্সিস ফুকেটে নাবিকদের স্থানীয় লজিস্টিক সাপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় সব সমন্বয় সাধনে কাজ করেছে।

আমরা বিশেষ ধন্যবাদ জানাই জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষকে, যারা নাবিকদের থাইল্যান্ডে থাকাকালীন থাকাখাওয়ার খরচ বহন করেছেন এবং নিয়মিত বেতন পরিশোধ করেছেন। এ ছাড়াও ঞুংবৎং, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, আইটিএফ এবং বাংলাদেশ দূতাবাসকে তাদের বলিষ্ঠ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের নাবিকরা আমাদের সম্পদ ও গর্ব। তাদের যেকোনো বিপদে আমাদের অ্যাসোসিয়েশন সবসময় অভিভাবকের মতো পাশে থাকবে। যোগ করেন সাখাওয়াত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজামালুল কুরআন মডেল হিফযখানায় হাফেজদের পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠান
পরবর্তী নিবন্ধসাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন