সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে মামলায় আরো ৪ জনের সাক্ষ্য

ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২৭ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান পদে নামকাওয়াস্তে ছিলেন রুকমীলা জামান। ব্যাংকটির বোর্ড মিটিংয়ে মূলত তার স্বামী ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদই সভাপতিত্ব করতেন এবং যাবতীয় ঋণ পাস তিনিই করতেন। ব্যাংকটি থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় গতকাল আদালতে আরো ৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যে তারা এসব কথা বলেছেন বলে দৈনিক আজাদীকে জানিয়েছেন দুদক পিপি মোকাররম হোসাইন। চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান যে ৪জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করেছেন তারা হলেন, ইউসিবির এএমডি নাবিল মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল আলম ফেরদৌস, ডিএমডি মো. শাহ আলম ভূইয়া ও এস এম মইনুল কবির। দুদক পিপি বলেন, এ নিয়ে জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে মোট ৩৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। আগামী ৬ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের ২৪ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মশিউর রহমান বাদী হয়ে জাবেদসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম১ এ মামলাটি দায়ের করেন। দুদক জানায়, ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তদন্তে ৩৬ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এরই প্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গত ৫ জানুয়ারি চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর ১১ মার্চ ৩৬ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক। চার্জশিটে বলা হয়, জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট লিমিটেডের প্রোটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ভিশন ট্রেডিং নামে একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেখানো হয় এবং ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর মিথ্যা তথ্য ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ইউসিবি পোর্ট শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়। ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভিশন ট্রেডিংয়ের নামে গম, মসুর, ছোলা, হলুদ ও মটর ক্রয়ের কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য ২৫ কোটি টাকার টাইম লোনের আবেদন করা হলে জামানত ছাড়াই উক্ত আবেদন মঞ্জুর হয় এবং একই বছরের ১২ মার্চ উক্ত ঋণটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আত্মসাৎকৃত ঋণের গন্তব্যস্থল বিষয়ে বলা হয়, আত্মসাৎকৃত অর্থ হুন্ডি ও হাওলা প্রক্রিয়ায় প্রথমে দুবাই পাচার করা হয়। পরে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা
পরবর্তী নিবন্ধ‘মান সনদ নেই’, এসিআই গোদরেজ ও আফতাব ফিডসহ ৭ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা