২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা

বড়দিঘির পাড়ে ঘটনা, গুলি ককটেল বিস্ফোরণ, শ্রমিককে কুপিয়ে জখম মাস্ক পরে ৮-১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি আসে টেম্পোতে এক মাস ধরে বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি, নির্মাণাধীন একাধিক ভবনও টার্গেটে

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২৭ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজ চক্রের তৎপরতা আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। নগরীর একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার রেশ কাটতে না কাটতে এবার ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে হামলা, গুলি ছোড়া, ভাঙচুর এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। নিরাপত্তাকর্মীসহ আরো কয়েকজন শ্রমিক শিকার হয়েছেন মারধরের। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু এই ভবন নয়, আশপাশের আরো কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনকেও একই চক্র চাঁদার জন্য টার্গেট করেছে। গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে সিটি কর্পোরেশনের ১ নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘির পাড়ে চট্টগ্রামখাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পূর্ব পাশে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি টেম্পোতে করে মুখে মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নির্মাণাধীন ভবনটির সামনে এসে নামে। সে সময় ভবনটিতে কয়েকজন শ্রমিক নির্মাণকাজে ব্যস্ত ছিলেন। হামলাকারীরা ভবনের ভেতরে ঢুকে প্রথমে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে আতংক সৃষ্টি করে। তারা শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভবনের বিভিন্ন কক্ষ, দরজাজানালা ও নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর করে।

একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা নির্মাণ শ্রমিক হাসান সাকীকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। ভবনের নিরাপত্তাকর্মীসহ আরো কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করে। যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা ভবনের সামনে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, হাটহাজারী এলাকায় তার চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। সম্প্রতি বড়দিঘির পাড় এলাকায় ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করার পর থেকে একটি বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতে থাকে। প্রায় এক মাস ধরে দফায় দফায় ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, নগরীর ডিডিএন ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার পর কয়েকদিন চাঁদাবাজরা নীরব থাকলেও গত এক সপ্তাহ ধরে আবার ফোন করে টাকা দাবি শুরু করে। বিষয়টি আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছিল। হামলার পর থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বড়দিঘির পাড় এলাকায় বর্তমানে নির্মাণাধীন অন্তত ৮ থেকে ১০টি বহুতল ভবনের মালিকের কাছেও একই কায়দায় ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। অনেকেই ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিষয়টি প্রকাশ করছেন না। তারা জানান, অতীতে কখনো এ এলাকায় এত সংঘবদ্ধভাবে নির্মাণাধীন ভবনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই নগরীর চকবাজার এঙেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা আলোচনার জন্ম দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দেশীয় অস্ত্র হাতে ১৫২০ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কর্মকর্তাকর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চাঁদা দাবির অভিযোগে মোবারক হোসেন ওরফে ইমনের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও নতুন করে বড়দিঘির পাড়ে একই ধরনের ঘটনা ঘটল।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, নগরী ও আশপাশের এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য করে চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া, সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনাগুলো উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা না গেলে ব্যবসাবাণিজ্য এবং বিনিয়োগ পরিবেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আজাদীর হাটহাজারী প্রতিনিধি গত রাতে জানিয়েছেন, ঘটনার ব্যাপারে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ
পরবর্তী নিবন্ধসাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে মামলায় আরো ৪ জনের সাক্ষ্য