নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লাভলেইন এলাকায় দিনে–দুপুরে লুট হওয়া পিকআপভর্তি অর্ধকোটি টাকার সিগারেট ১৫ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ৭ আসামির মধ্যে ৬ জনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ব্যস্ততম লাভলেইন মোড়ে লুটের এই ঘটনা। ঘটনার পরদিন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন মো. হৃদয়, শুক্কুর, নয়ন, ফরহাদ, মো. শফি আলম, মো. আদি ও মো. আফসার।
এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে কাজীর দেউড়ির এসএ পরিবহন থেকে প্রায় ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট বোঝাই করে একটি পিকআপ রিয়াজউদ্দিন বাজারের দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটিতে চালক আনোয়ার হোসেন ও হেলপার মো. জাহিদ ছিলেন। দুপুর দেড়টার দিকে লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো–১১ পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশে পৌঁছানো মাত্র কয়েকজন দুর্বৃত্ত পিকআপটির গতি রোধ করে। তারা প্রথমে চালকের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালককে কিল–ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এমনকি হেলপার জাহিদ বাধা দিতে গেলে তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতে তার নাকে মারাত্মক জখম হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা পিকআপে থাকা ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট জোরপূর্বক অপর একটি গাড়িতে তুলে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া এসব সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। যাওয়ার সময় আসামিরা মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। বাদী আমিনুল ইসলাম আজাদীকে জানান, আসামিরা এনায়েত বাজার এলাকায় টাইলসের দোকানে কাজ করাসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। যে পিকআপ থেকে মালামাল লুট হয়েছে, তার চালক ও হেলপারও এনায়েত বাজার এলাকায় নিয়মিত মাল পরিবহন করতেন। তাদের এবং আশপাশের লোকজনের শনাক্তের ভিত্তিতে এই ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তিনি জানান, লুট হওয়া এই মালামাল শুধু একা তার নয়, আরও তিনজন ব্যবসায়ীর পণ্য ছিল সেখানে।
আদালত সূত্র জানায়, মালামাল লুটের এই মামলায় গতকাল দুজন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করে। এর আগে একই আদালত থেকে আরও ৪ জন আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহিদুল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে আজাদীকে বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আজ পর্যন্ত ৬ জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছেন। আদালত সকলকে জামিন দিয়েছেন। অথচ লুট হওয়া মালামাল এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এতে আমার মক্কেল হতাশায় রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকান্দার মিয়া আজাদীকে বলেন, আমরা আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারিনি, পাশাপাশি লুট হওয়া মালামালও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের সরাসরি গ্রেপ্তার করা গেলে হয়তো মালামাল উদ্ধার করা সহজ হতো। তিনি জানান, পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও ৭ আসামির মধ্যে ৬ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বেরিয়ে গেছেন। তবে মামলার একমাত্র পলাতক ও প্রধান আসামি হৃদয়কে ধরার চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে লুট হওয়া মালামাল কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।












