পৃথিবীতে সততার দাম নেই–আজকাল এরকমটাই শুনতে পাওয়া যায়। যারা কথাটা বলেন তারা সততার কারণে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ধাক্কা খেয়েছেন বলেই দুঃখ করে বলেন আর আমরা যারা সততার ধার ধারি না তারা সেই কথাটাকে আমাদের অসৎ হবার অবলম্বন করে নিয়েছি; যে জীবনে ভালো থাকতে হলে সততা বর্জন করতে হবে। একটু ভেবে দেখুন তো আসলে কি কথাটা ঠিক? আপনি কি একজন চোরকে আপনার বাড়ির সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্ব দেবেন? কিংবা দুর্নীতিবাজকে নিজের অফিসের? দুশ্চরিত্রকে মেয়ের টিউশনির? একটা গৃহকর্মী নির্বাচনের সময়ও আমরা প্রথমে সততা দেখি তারপর অন্য যোগ্যতা তাহলে সততার দাম নেই কীভাবে? ছোটবেলা থেকে পড়ে এসেছি ‘সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা’, ‘দুর্জন বিদ্যান হলেও পরিত্যাজ্য’ কিন্তু সেই বিদ্যাগুলো যেন ভাব–সম্প্রসারণের পাতায়ই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে! পুরোনো প্রিয় বইগুলোর মতো উক্তিগুলো একপাশে সাজিয়ে রেখে আমরা নেমে পড়েছি টাকা রোজগারের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায়! নীতিতে কতখানি নীচে নেমে গেলো তা নিয়ে ভাবার সময় নেই। আজকাল মানুষ বিয়েও বোধ হয় মানুষকে করে না, করে তার সামাজিক স্ট্যাটাসকে। যার সামাজিক স্ট্যাটাস যত চমকদার, তার গুরুত্ব তত বেশি।
তাছাড়া বর্তমান প্রাইভেট টিউটর নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ইউটিলিটি বিলের ক্রমবর্ধমান হার, বাড়িভাড়ার চাপ – সবদিক সামলে নিজের অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখতে গেলে টাকা চাই, অনেক অনেক টাকা। তাই শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা সবকিছু কাজে লাগিয়েও যখন ক্রমবর্ধমান টাকার চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না তখন হয়তো নীতির বিনিময়ে অর্থকেই বেছে নিচ্ছেন কেউ কেউ। অনেকে হয়তো ‘সিস্টেমে’ পড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন আবার কেউ কেউ নিজের চাহিদার উপর লাগাম লাগাতে পারছেন না বলে। যে দক্ষতা দশের কল্যাণে ও দেশের উন্ন্য়নে কাজে লাগার কথা তা অকল্যাণে ভেসে যাচ্ছে। একদল দক্ষ মানুষ যখন অন্যায়, অকল্যাণের পথ ধরে তার ফল হয় ভয়াবহ। আরেকদিকে অনেক মানুষ খুব সৎ কিন্তু নিজেকে সম্পদে রূপান্তরিত করার ব্যাপারে তাদের বিশেষ কোন আগ্রহ নেই,তারা আসলে দেশ ও দশের কল্যাণে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারে না। সততা ছাড়া দক্ষতা যেমন কোন কল্যাণে আসে না, দক্ষতা ছাড়া সততা আসলে তেমন কাজে লাগে না। দেশ ও দশের কল্যাণ তখনই সম্ভব যখন সততা ও দক্ষতার সঠিক সমন্বয় হয়। প্রতিটি মানুষ যার যার অবস্থানে থেকে নিজের কাজগুলো যদি সততা এবং দক্ষতার সাথে আন্তরিকভাবে করে তাহলেই সম্ভব সর্বক্ষেত্রে সাফল্য এবং উন্নয়ন – মানুষের জীবদ্দশায় এটাই হতে পারে দেশপ্রেমের উত্তম বহিঃপ্রকাশ।













