শিশু-হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি চাই

জামাল উদ্দিন বাবুল | শনিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

সারা দেশ আবার কেঁপে উঠলো, না কোন ভূমিকম্পে নয়, এক হৃদয় বিদারক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হলো পুরো জাতি। অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক বালকের অসময়ে দুনিয়ার জার্নি শেষ করে পরপারে যাত্রা মিডিয়ার কল্যাণে প্রত্যক্ষ করলো সারা দেশবাসী। শোক স্তব্ধ মানুষ ভাষা হারিয়ে ফেলেছে এমন দৃশ্যের সচিত্র সংবাদ দেখে। বলছিলাম গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত স্কুল ছাত্র কিশোর অপ্রতিমের কথা। অপ্রতিম বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বাবা চাকরিজীবী। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এ কিশোর এর বয়স মাত্র ১৩ বছর। পিতা মাতা আদর যত্ন সোহাগ ভালোবাসা দিয়ে পরম স্নেহে যে সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সংগ্রামে নেমেছিলেন সে যুদ্ধ হঠাৎ থেমে গেল মাঝ পথে। আদরের দুলালকে হারিয়ে পাগলপ্রায় পিতা মাতার আহাজারী, আর্তনাদ, বিলাপ বিবেকের দুয়ারে আঘাত করছে বারে বার।

এ কোন দেশে আমরা বাস করছি, এ কোন সমাজের বাসিন্দা আমরা যেখানে জীবনের ন্যূনতম বেঁচে থাকার গ্যারান্টি নেই। মিডিয়ার বদৌলতে সারা বিশ্ব এসব সংবাদ দেখে কী ভাবছে আমাদের সমাজব্যবস্থা নিয়ে। পিতা মাতার শাসন সোহাগে একজন শিশু গড়ে উঠে। সন্তানের প্রতি অতি মাত্রায় আদর স্নেহ অনেক সময় শিশুর বেপরোয়া আচরণে প্রকাশ পায়। প্রতিটি শিশু পিতা মাতার জন্য আল্লার দেয়া অফুরন্ত নেয়ামত স্বরূপ। সন্তানের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা, তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা, তার আচার ব্যবহার চালচলন কথাবার্তা এসব কিছু দৃষ্টির সীমানায় রাখলে কোন সন্তান বখে যেতে পারে না। অপ্রতিমের যে বয়স এ সময় তার বন্ধু মহলে থাকার কথা তার বিদ্যালয়ের সহপাঠী তারই সমবয়সী অথচ আমরা জানতে পারলাম তার বন্ধুদের সবাই তার চেয়ে ৩/৪ কিংবা আরও বেশি বয়সী। যে সময়টা অর্থাৎ মধ্যাহ্নে সবার বাসায় থাকার কথা সে সময় সে মায়ের দামী আইফোন নিয়ে চলে গেলো অন্দর মহলের বাইরে বন্ধুদের সাথে সেলফি তুলবে বলে। পিতা মাতা প্রশ্ন করলো না কিংবা বাধাও দিল না বরং হাসি মুখে তাকে বাই বলে বিদায় দিল যে বিদায় নিয়ে কয়েক ঘন্টা পর শিশুটি ঘরে ফিরলো নিথর দেহে। কী এক অবাক কান্ড, কী থেকে কী হয়ে গেল, সন্তান হারা মা বাবা এ মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। পারবার কথাও না।

অপ্রতিমের অস্বাভাবাবিক মৃত্যু একটি প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে তা হলো পিতা মাতা কিংবা অভিভাবকমহল তাদের সন্তানদের প্রতি কতটুকু সচেতন। যে সব পরিবারে মা বাবা দুজনেই চাকরিজীবী তারা বাসা বাড়িতে কার জিম্মায় তাদের সন্তানদের রেখে যান। এমন একটা সময় ছিল যখন যৌথ পরিবারে সবাই সবার প্রতি দায়িত্ব পালন করতো। সন্তানের দেখ ভালো করা এবং যত্ন নেয়া শুধু মা বাবা নয় অন্য যারা বসবাস করতেন সবাই এ ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। আজকাল খুব একটা যৌথ পরিবার দেখা যায় না। প্রতিটি পিতা মাতা ও অভিভাবকের উচিৎ নিজ নিজ সন্তানের প্রতি নজর রাখা।

আমাদের বর্তমান সমাজে অপরাধের নানা কৌশল ও ধরন দেখা যাচ্ছে যেখানে শিশু অপরাধীদের হার আশংকাজনক। পাড়া মহল্লায় কিশোরগ্যাং নামে নব অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য আশংকাজনক হারে বেড়ে চলেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো না হলে অচিরেই জনগণকে এসব দুর্বৃত্তদের কবল থেকে রেহাই পাবে না নিরীহ জনগণ। অপ্রতিমের ঘাতকদের কেউ কেউ পুলিশের কব্জায় এলেও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য এখনও অনুদঘাটিত। আমরা চাই অবিলম্বে নিরীহ এই শিশুর হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে কঠিন ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

লেখক: সভাপতি, নবীন মেলা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসততা ও দক্ষতার সমন্বয়েই সর্বোচ্চ কল্যাণ
পরবর্তী নিবন্ধসম্ভাবনার সিংহদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর