আমার চোখে এই পৃথিবীর সবচেয়ে কোমল, নিরাপদ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার রূপ হল বাবা মেয়ের সম্পর্কের বন্ধন। এই বন্ধনের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে অগাধ ভালোবাসা, নির্ভরতা এবং আবেগ। মেয়েরা বাবার কাছে রাজকন্যা। বিশেষ করে বাবার স্নেহময় ছায়াতলে একটি মেয়ে তার জীবনের প্রথম রাজকন্যার মত অনুভূতি পায় এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে বড় হয়ে ওঠে। আর বাবারা হলেন মেয়েদের জীবনে প্রথম হিরো এবং নিঃশর্ত ভালোবাসার আশীর্বাদ। যদিও সন্তান মাত্রই বাবা–মায়ের স্নেহ ভালোবাসার সমান দাবীদার। তবুও কেন জানি মেয়েরা বাবার প্রতি বেশি এবং ছেলেরা মায়ের প্রতি বেশি দুর্বল থাকে। প্রকৃতিই হয়তো এই বৈপরীত্যের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তবে পৃথিবীর সমস্ত ঝড়ের মাঝে বাবা হলেন এক নিরাপদ বন্দর যেখানে পৌঁছালে সব ক্লান্তি ও ভয় মুহূর্তে মুছে যায়। বাবার শাসন হয়তো অনেক সময় কঠোর মনে হয়, কিন্তু সেই শাসনের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে এক বিশাল মায়াবী সমুদ্র।
সন্তান যখন কষ্টে থাকে বাবা সেটি বুঝে নেন চুপচাপ। কিন্তু চোখের জল ফেলার আগেই তার সমাধান করে দেন। একটা কথা ছোটকাল থেকেই শুনে আসছি। বাবাদের জামাকাপড় মায়েদের থেকে কম দামি হয়। বাবাদের এক জোড়া জুতা বছরের পর বছর পরেও না ছেঁড়া পর্যন্ত ফেলেন না। নিজের জন্য কৃপণ বাবা শেষ পর্যন্ত সন্তানের জন্য বেহিসাবি হন। সত্যিই বাবারা এমনই। জীবনের কঠিন পথে চলতে গিয়ে যখন আমরা হোঁচট খাই, পরম মমতায় হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মানুষটিই হলেন বাবা। আমার জীবনের সব সাহস, সব শিক্ষা, সব ভরসা এসেছে একজন মানুষ থেকে। তিনি হলেন আমার বাবা। যখন কেউ পাশে থাকে না, তখন একজন মানুষের অনুভব, আশীর্বাদ সব আমার পাশে থাকে। তিনি আমার বাবা। জীবন সমুদ্রের ওপারে বাবারা পাড়ি দেন ঠিকই কিন্তু নিঃশ্বাস রয়ে যায় এপারের সন্তানের ওপর।
বাবাদের আবেগ মায়েদের চেয়ে আরো বেশি হয়। কিন্তু বাবারা সেই আবেগ দেখাতে পারেন না। কারণ অন্যরা যেন ভেঙে না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রেখে নিজেকে কঠিন করে তোলেন। পৃথিবীতে তারাই ভাগ্যবান যারা বেঁচে থাকতে বাবাকে যত্ন নিতে পারছেন। যাদের বাবা নেই তাদের মতো হতভাগ্য এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই। বাবা চলে যাওয়ার পর সন্তানেরা টের পায়, পৃথিবীর বুকে কী হারিয়েছে! বাবাকে ডাকতে না পারার কষ্ট কত যে দুর্বিষহ তা শুধু পিতৃহীনরাই বোঝে। হয়তো মেয়েদের আবেগ বা কষ্ট একটু বেশি হয়। বাবার আষ্টেপৃষ্টে লালিত সন্তান বাবাকে আর ডাকবে না, দেখতে পাবে না এটা ভাবতেই অবাক লাগে। বাবাদের শেষ ঠিকানা হয় স্রষ্টার দরবারে। এটা কি সত্যি? তাহলে খুব জানতে ইচ্ছে হয়, ওখানে বাবারা কেমন থাকেন? সন্তানের জন্য প্রাণ কাঁদে কি? আদরের সন্তানকে ফেলে বাবা ওখানে আদৌ ভালো থাকতে পারেন? আমি কিন্তু ভালো নেই বাবা। আচ্ছা বাবা, সত্যি করে বলতো ‘তুমি ভালো আছো তো’?














