শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর। ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে উৎসবের আমেজ। সেই উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। স্বাগতিক দেশ হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিটি দেশের পরিচিতি পর্ব থাকে। আর এই পরিচিত পর্বে প্রথমে একজন পতাকা হাতে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে। একে একে যারা পতাকা হাতে নিয়ে প্রবেশ করে তারা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকে। সেই পতাকাটি জানিয়ে দেয় উক্ত দেশের অংশগ্রহণের খবর। এভাবে পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে প্রতিটি দেশের দর্শক; খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সকলেই বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ ও দেশপ্রেম প্রকাশ করে। একটি পতাকা কতটুকু শক্তিশালী তখন বোঝা যায়। শুধুমাত্র যে যার দেশের পতাকাকে নয় বরং অন্যান্য দেশের প্রতিটি পতাকা প্রদর্শনের সময় দর্শক, খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্ট সকলে সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে সুন্দর ও স্বচ্ছ খেলা কামনা করে। স্টেডিয়ামে অবস্থানরত দর্শকরাই শুধু নয়; স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত দর্শক – শ্রোতারাও সম্মান প্রদর্শন করে। প্রতিটি খেলায় খেলোয়াড়রা স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় এক একটি ছোট শিশুর হাত ধরেই প্রবেশ করে। ছোট্ট শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে খেলোয়াড়রা শিশুদের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। কোন কোন খেলায় আবার প্রতিবন্ধী শিশুদেরকেও সাথে নেওয়া হয়। যে যার অবস্থান থেকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে।
একটি পতাকাই তাদের প্রাণশক্তিকে ধরে রাখতে যথেষ্ট অবদান রাখে। তাই আন্তর্জাতিক খেলা গুলোর সময় দেশ বিদেশে প্রত্যেকটি অঞ্চলে পতাকার কদর বেড়ে যায়। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব চিন্তাধারা ও মতামত প্রকাশের অধিকার আছে। নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন করে পতাকা কেনাকাটা তার বড় আনন্দের বিষয়। কেউ বারান্দায়, কেউ জানালা দিয়ে পতাকা উড়িয়ে দেয়। কেউ আবার ছাদে লম্বা বাঁশের মাথায় পতাকা উড়িয়ে দেয়। কেউ কেউ ঘরবাড়ি উঠান আঙিনা পছন্দের দলের রঙে রঙ্গিন করে। এই সময় খেলায় অংশগ্রহণকারী পছন্দের দলগুলোর দেশের পতাকা চাহিদা বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরে যদিও বাংলাদেশ থাকবে না তবুও লাল সবুজের পতাকা প্রচুর পরিমাণে বেচাকেনা হয়। বিভিন্ন দেশের অধিবাসী যারা ফুটবলপ্রেমী তারা নিজের দেশের পতাকার পাশাপাশি নিজের পছন্দের দলের পতাকা ও খেলোয়াড়দের জার্সি ক্রয় বিক্রয় করছে। কেউ কিনছে প্রিয় দলের জার্সি কেউ আবার পতাকা। ২০১৮ সালে রাশিয়ার বিশ্বকাপের অফিসিয়াল পোশাক উৎপাদনে যুক্ত ছিল বাংলাদেশ। ২০২৬ এসে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হওয়া সত্ত্বেও ফিফার অফিসিয়াল জার্সি কিংবা অংশগ্রহণকারী কোন দলের জার্সিতে এবার জায়গা করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উপস্থিতি সীমাবদ্ধ থাকছে। দর্শকদের জন্য তৈরি হচ্ছে শুধু ফ্যান জার্সি ও টি–শার্ট। প্রতিবছরের মতো এবারও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
লেখক : প্রাবন্ধিক, কলেজ শিক্ষক।












