কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটলেই আমরা সবাই সোচ্চার হই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম সবখানেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। কিন্তু দু–এক মাস যেতে না যেতেই সেই ক্ষোভ স্তিমিত হয়ে যায়। দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলো আজীবন সেই ক্ষত বয়ে বেড়ালেও আমাদের স্মৃতি গুলো খুব দ্রুতই মুছে যায়। এভাবেই আমরা শিক্ষিত হয়েও অনেক সময় নাগরিক দায়িত্ব পালনে অশিক্ষিতের পরিচয় দিই।
কিছুদিন আগেও অরক্ষিত ড্রেনে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং একই ধরনের ঘটনায় এক মধ্যবয়সী ব্যবসায়ীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছিল। সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এ ধরনের অবহেলাজনিত দুর্ঘটনা আর ঘটতে দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবতা কি বদলেছে?
চট্টগ্রামের লালখান বাজার মোড়ে বর্তমানে সড়কের দুই পাশে এবং কিছুটা সামনে আরও কয়েকটি নির্মাণাধীন গভীর গর্ত সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই, নেই সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, রাতের জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা বা বিপদ নির্দেশক ব্যারিকেড। প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী, স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ, মোটরসাইকেল আরোহী ও যানবাহন এই পথ ব্যবহার করেন। সামান্য অসতর্কতা, বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা বা রাতের অন্ধকারে যে কোনো সময় ঘটতে পারে আরেকটি অপূরণীয় দুর্ঘটনা।
উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু মানুষের জীবনের নিরাপত্তার বিনিময়ে কোনো উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের প্রশ্ন এই কাজের নির্ধারিত সময়সীমা কত? কবে শেষ হবে? আর ততদিন পর্যন্ত জনসাধারণকে কেন এমন ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হবে? আমরা অনুকরণ করি পোশাকে–আশাকে। কেন অনুসরণ করি না কাজের গতি কে? আমরা চাই না আর কোনো পরিবার তাদের প্রিয়জনকে অবহেলার কারণে হারাক। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান অবিলম্বে সব নির্মাণাধীন গর্তের চারপাশে নিরাপদ ব্যারিকেড, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।












