কিশোররাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, সামপ্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চুরি, ছিনতাই, মারামারি, মাদকসেবন, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনায় অনেক কিশোরের জড়িয়ে পড়ার খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে উঠে আসে।
এসব অপরাধ শুধু আইন–শৃঙ্খলার জন্য হুমকি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি অশনিসংকেত। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক অবহেলা, নৈতিক শিক্ষার অভাব, মাদকের সহজলভ্যতা, সামাজিক সচেতনতার ঘাটতি এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার কিশোরদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কিশোরদের সম্পৃক্ত করতে হবে এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আহ্বান, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের পুনর্বাসন ও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ আজকের একজন সচেতন ও সুশিক্ষিত কিশোরই আগামী দিনের দায়িত্বশীল নাগরিক।
বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম।











