বাবা কে, জানলেন ২৭ বছর পর

| বুধবার , ১০ জুন, ২০২৬ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকার এক যুবকের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, ‘আমার বাবা কে?’ সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে কেটে গেছে ২৭ বছর। নিজের বাবার পরিচয় না জেনে বেড়ে ওঠা ওই যুবকের জীবনে অবশেষে এলো স্বস্তির মুহূর্ত। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস চট্টগ্রামের মধ্যস্থতায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি ফিরে পেয়েছেন তার বাবার স্বীকৃতি, পারিবারিক পরিচয় এবং উত্তরাধিকার।

চট্টগ্রাম লিগ্যাল এইড সূত্রে জানা যায়, যুবকের জন্মের সময় তার বাবা প্রবাসে ছিলেন। এর মধ্যে বাবামায়ের বিয়ে বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। পরে তার মা অন্যত্র বিয়ে করেন। খবর বাংলানিউজের।

শৈশব থেকে তিনি বড় হয়েছেন মামার কাছে। বাবার পরিচয়, স্বীকৃতি ও উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস চট্টগ্রামে অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া তাকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর শুরু হয় আইনি ও সামাজিক লড়াই।

লিগ্যাল এইডের সহকারী মোহাম্মদ এরশাদুল ইসলাম বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সুব্রত দাশ স্যারের তত্ত্বাবধানে এবং দুজন প্যানেল আইনজীবীর সহযোগিতায় মা, বাবা ও সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে জমা দেয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও যুবকের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ জৈবিক পিতাপুত্র সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বাবা ছেলেকে নিজের সন্তান ও বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। স্থানীয় মসজিদে জুমার নামাজের পর মসজিদে দাঁড়িয়ে এলাকাবাসীর সামনে তাকে সন্তান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়া ছেলেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি দেওয়ার পাশাপাশি ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা সহায়তা করবেন বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সুব্রত দাশ বলেন, বাবা ছেলের ওয়ারিশ সনদ তৈরিতে সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তা সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। মধ্যস্থতা চুক্তির পর থেকেই ছেলে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করবেন। দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্ন সম্পর্কের অবসানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা ও ছেলে দুজনই।

তিনি বলেন, আইনগত সহায়তার পাশাপাশি মানবিক সমাধান নিশ্চিত করাই লিগ্যাল এইডের অন্যতম লক্ষ্য। এই মধ্যস্থতার মাধ্যমে একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের সংকটের অবসান হয়েছে। ২৭ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে এক যুবক ফিরে পেলেন তার পরিচয়। ফিরে পেলেন তার বাবা, উত্তরাধিকার, আর সবচেয়ে বড় কথা নিজের আপন ঠিকানা।

২৭ বছর পর বাবার পরিচয় ফিরে পাওয়া যুবক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ২৭ বছর পর বাবার স্বীকৃতি পেয়েছি। আমি খুবই খুশি। জীবনে যে শূন্যতা ছিল আজ তা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। বাবা আমাকে তার ছেলে হিসেবে মেনে নিয়েছেনএটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ
পরবর্তী নিবন্ধতদন্তে চট্টগ্রামে বিএসটিআই, স্টোরেজ ট্যাংক পরিদর্শন