তদন্তে চট্টগ্রামে বিএসটিআই, স্টোরেজ ট্যাংক পরিদর্শন

যমুনা অয়েলের ফতুল্লা ডিপোর তেল চুরি

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১০ জুন, ২০২৬ at ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ

যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ফতুল্লা ডিপো থেকে জ্বালানি তেল চুরির অভিযোগে শুরু হওয়া তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) এবার চট্টগ্রামে সরেজমিনে তদন্তে নেমেছে। তদন্তের স্বার্থে ফতুল্লা ডিপোর সঙ্গে পাইপলাইনে সংযুক্ত চট্টগ্রাম টার্মিনালের সংশ্লিষ্ট স্টোরেজ ট্যাংক পরিদর্শন করেছে সংস্থাটি।

বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত জ্বালানি তেল চুরির অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে প্রথমে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশ উঠে আসার পর শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিএসটিআই অধিকতর তদন্তের জন্য পৃথক একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) মো. সাইফুল ইসলাম।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্ত দল চট্টগ্রামের পতেঙ্গার গুপ্তখালে অবস্থিত যমুনা অয়েল কোম্পানির টার্মিনাল পরিদর্শন করেছে। ফতুল্লা ডিপোর ডিজেল সংরক্ষণ ট্যাংক নম্বর ২২ ও ২৩এর সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত স্টোরেজ ট্যাংকগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুধু ট্যাংক পরিদর্শন নয়, ট্যাংকগুলোর ধারণক্ষমতা, হালনাগাদ ক্যালিব্রেশন তথ্য, সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা এবং তেল স্থানান্তর সংক্রান্ত নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে ফতুল্লা ডিপো এবং চট্টগ্রাম টার্মিনালের মধ্যে জ্বালানি তেল পরিবহন ও মজুদের হিসাবের কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না তা অনুসন্ধান করবে তদন্ত কমিটি। যমুনা অয়েলের চট্টগ্রাম টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ এবং ট্যাংক ক্যালিব্রেশনকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ডিপো ও স্টোরেজ ট্যাংকের সঠিক হিসাবনিকাশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাইপলাইনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পরিমাপগত সামান্য অসঙ্গতিও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ কারণে ট্যাংকের ক্যালিব্রেশন, মজুদ রেকর্ড এবং বাস্তব পরিমাণের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি মানদণ্ড।

জানা গেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে ট্যাংকগুলোর ধারণক্ষমতা নির্ধারণে ব্যবহৃত ক্যালিব্রেশন সনদ, মজুদ রেকর্ড, তেল স্থানান্তরের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্যও পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত শেষে বিএসটিআই কমিটি একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন শিল্প মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে।

জ্বালানি তেল চুরির ওই অভিযোগ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। ইতোপূর্বে তদন্ত কমিটি ক্যালিব্রেশনে গোলমাল শনাক্ত করেছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের যাচাইবাছাই ও কারিগরি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র উদঘাটনই এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য। যদি কোনো অনিয়ম, গাফিলতি বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষার স্বার্থে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। কারণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার যেকোনো দুর্বলতা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনে পাঠানো তেল ফতুল্লা ডিপোর দুটি ট্যাংক থেকে প্রায় চার লাখ লিটার তেল গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাবা কে, জানলেন ২৭ বছর পর
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তথ্য ও অভিযোগ বক্স স্থাপন