বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ভঙ্গুর ও বিধ্বস্ত সড়কগুলো ভেসে উঠেছে। ২৪ জুলাই প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় ২৪১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত। চট্টগ্রামে সড়ক ও জনপথের (সওজ) ২৪১ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক মেরামতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বরাদ্দের জন্য প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বল্প মেয়াদে মেরামতের জন্য ৩৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং দীর্ঘ মেয়াদী মেরামতের জন্য ২১০ কোটি ২৯ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম সড়ক জোন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কের তথ্য সড়ক ভবনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সামপ্রতিক সময়ের বন্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় মোট ২৪১ কিলোমিটার জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২ দশমিক ২৩ কিলোমিটার। আঞ্চলিক মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭৬ কিলোমিটার।
বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর দেখা দিয়েছে সড়কের বেহাল অবস্থা। বড় বড় খানা খন্দে ভরে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষত–বিক্ষত হয়েছে মহাসড়ক। ফাটল দেখা দিয়েছে অনেকস্থানে। বন্যায় ঘরে ঘরে অসহায়ত্ব বিরাজ করছিল। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে অনেক পরিবার। অনেক পরিবার পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহের উপর গুরু দায়িত্ব বর্তায় দ্রুত সময়ে ত্রাণ সরবরাহ, পুনর্বাসন ও সড়ক মহাসড়ক সংস্কার করা।
তবে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকায় সামপ্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগের কারণে কোনো অবস্থাতেই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের কিনারা ধসে পড়েছে, আবার কোথাও কালভার্ট ও ড্রেনেজব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা প্রস্তুত, ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, রপ্তানি–আমদানি কার্যক্রম এবং শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্র হওয়ায় চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে অনেক এলাকায় কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিকল্প সড়ক ব্যবহার, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি মেরামত এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যোগাযোগব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সড়ক নির্মাণে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। উন্নত ড্রেনেজব্যবস্থা, অধিক উচ্চতায় সড়ক নির্মাণ, টেকসই নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নদীভাঙন প্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। নতুন প্রকল্পে জলবায়ু–সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে একই স্থানে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নিতে হবে। এ জন্য প্রকৌশলীদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আমরা মন্ত্রীর মতো আশাবাদী যে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ হবে। সংস্কার কাজে অবহেলা বা গাফেলতি কারো কাম্য নয়। দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসুক–সেটাই প্রত্যাশা সকলের।







