তেল সংকটে হ্রদে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ ‘সীমিত’

রাঙামাটিতে সমস্যায় ট্যুরিস্ট বোট চালকরা

রাঙামাটি প্রতিনিধি | শনিবার , ১১ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রধান আকর্ষণ হলো কাপ্তাই হ্রদ। কিন্তু বর্তমানে এই হ্রদে পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ সীমিত হয়ে আসছে জ্বালানি তেলের সংকটে। স্থানীয় পাম্পগুলো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন শতাধিক ট্যুরিস্টবোট চালক ও খাতসংশ্লিষ্টরা।

সমপ্রতি রাঙামাটির পর্যটন ঝুলন্ত সেতু এলাকার পর্যটন বোটঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারিসারি বোট নোঙর করা থাকলেও পর্যটকদের আনাগোনা কিছুটা কম। বোট চালকদের কাউন্টারে বসে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে।

পর্যটন বোটঘাট কাউন্টারের তথ্য মতে, কাউন্টারের তালিকাভুক্ত প্রায় শতাধিক ট্যুরিস্ট বোট রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে সচল থাকা প্রায় ৫০টি বোট কাপ্তাই হ্রদে যাতায়াত করছে আর বাকিগুলোর মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। তাদের দৈনিক প্রায় ১০০১৫০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাম্প থেকে তাদেরকে দেয়া হচ্ছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম। তেল সংকটের কারণে হ্রদের দূরবর্তী দর্শনীয়স্থানগুলোতে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বোটচালক ও খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটনখাতকে সচল রাখতে এবং তাদের জীবিকা রক্ষায় তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় রাঙামাটির সম্ভাবনাময় এ খাত বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে। স্থানীয় বোটচালক মো. সোহেল বলেন, আমরা কষ্ট করে কোনো রকম করে বোট চালাচ্ছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো রকম অল্প তেল দিয়ে বোট চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে আমাদের পোষানো সম্ভব হচ্ছে না।

আরেক বোটচালক জসিম উদ্দিন বলেন, অনেক সময় দূর থেকে পর্যটকরা এসে লেকে ঘুরার জন্য বোট ভাড়া করেন। কিন্তু তেল পর্যাপ্ত থাকায় আমরা তাদের দূরে জায়গাগুলোতে ঘুরাতে নিতে পারি না। এতে আমাদের আয়ও কমে যাচ্ছে। আমাদের কোনো রকম ম্যানেজ করে বোট চালাতে হচ্ছে। আমরা চাই তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। কারণ এই বোট চালিয়ে আমাদের জীবিকা চলে। এখন বোট চালাতে না পারলে আয় না হলে পরিবার চালানো যাবে না।

পর্যটন বোটঘাট কাউন্টারের লাইনম্যান মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের জ্বালানি সংকটে ট্যুরিস্টবোট চালাতে হিমশিম অবস্থা। পাম্প থেকে যা তেল দেওয়া হয় তা পর্যাপ্ত নয়। আমাদের দৈনিক ১০০১৫০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাম্প থেকে দেওয়া হয় ১০১৫ লিটার করে। এ অল্প তেল দিয়ে তো আমাদের পোষানো সম্ভব নয়। শুক্রবারে ৮১০টি মতো বোট ভাড়া হলেও অন্যান্য দিনগুলোতে দৈনিক ৩৫টি বোট ভাড়া হয়। আয় কমে গেছে চালকরাও এখন অলস সময় পার করছে।

রাঙামাটি ট্যুরিস্টবোট মালিক কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি মো. রমজান আলী বলেন, আমাদের প্রায় ১০০টির অধিক বোট রয়েছে। ঈদের পর থেকে তেলের জন্য আমাদের বোট চালকরা অনেক কষ্ট করে বোট চালাচ্ছেন। তবে সমপ্রতি জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের একদিন পর পর করে পাম্প থেকে তেলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হলেও তা পযাপ্ত নয়।

রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ট্যুরিস্ট বোটগুলো যেন সচল থাকে সেই লক্ষ্যে পাম্পগুলোকে বলে দেয়া হয়েছে। যাতে ট্যুরিস্ট বোট ও যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর জন্য তেল বরাদ্দ করে রাখা হয়। আমরা চেষ্টা করছি একদিন পর পর করে পর্যটনের বোট ও লঞ্চগুলোকে প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ করতে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাঘাইছড়িতে বিদেশি পিস্তল ও গোলাবারুদ উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধসকলের জন্য নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চাই : মেয়র