হাম ও অন্যান্য রোগের টিকা ও সিরিঞ্জ কেনায় ‘অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্তের আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ। গত রোববার দুদক চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া ওই আবেদনে তিনি হামের টিকা ও সিরিঞ্জ কেনা, সরবরাহ এবং টিকাদান প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।
আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। সংযুক্তি হিসেবে সংবাদপত্রের প্রতিবেদনও যুক্ত করেছেন তিনি। বিপ্লব কুমার দাশ বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭৯টি শিশুর মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটাই এখন স্পষ্ট না। বিষয়টি মহামারীর আকার নিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। নিজের উদ্বেগের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমার নিজেরও বাচ্চা আছে। আমার বাচ্চাও হামে আক্রান্ত হয়েছিল। হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই আইনজীবী বলেন, তার এক সন্তানের বয়স এক বছর পূর্ণ হয়েছে, আরেক সন্তানের বয়স সাত বছর। বড় সন্তান সময়মত হামের টিকা পেলেও পরে অসুস্থ হয়েছিল। ছোট সন্তানের এখনও একটি টিকা বাকি আছে। দুদকে দেওয়া আবেদনে বিপ্লব কুমার দাশ বলেন, সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি তাকে ‘মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত’ করেছে। তার ভাষ্য, হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া এবং শিশুমৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা ‘সত্যিই উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার’। হামে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের দায় রয়েছে বলে সাধারণ নাগরিক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মতামত দিয়েছেন।
একই সঙ্গে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হামের টিকা ও সিরিঞ্জের অভাবকে আগের সরকারের সৃষ্ট সমস্যা বলে মন্তব্য করেছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিপ্লব কুমার দাশ। তার আবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতে ‘যথেষ্ট’ বাজেট থাকা সত্ত্বেও সময়মত হামসহ অন্যান্য রোগের টিকা ও সিরিঞ্জ কেনা হয়নি এবং শিশুদের টিকাদানেও ‘ব্যর্থতা’ ছিল। আবেদনে তিনি লিখেছেন, এর ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়েছে এবং পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, হাজার হাজার শিশু হাম ও অন্যান্য রোগে ‘অপ্রতুল প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে’ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। দুদকে পাঠানো অভিযোগে বলা হয়, টিকা কেনার নতুন পদ্ধতি গ্রহণ, সময়মত প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা ও সিরিঞ্জ না কেনা, এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ না করা এবং স্বাস্থ্য খাতের অর্থের সঠিক ব্যবহার না হওয়া ‘দুর্নীতি ও অনিয়মের ইঙ্গিত’ দেয়।












