‘জটিল হৃদরোগ চিকিৎসায় এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম’

দক্ষতা বাড়াতে তরুণ চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

জটিল হৃদরোগের চিকিৎসায় সক্ষমতা বাড়ছে চট্টগ্রামের। আধুনিক ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা পদ্ধতিতে বাড়ছে রোগীসেবা ও চিকিৎসার পরিধি। চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আটটি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬২০টি পিটিসিএ (এনজিওপ্লাস্টি/স্টেন্টিং) হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের সিএসসিআর ক্যাথল্যাব ও রেডিসন ব্লু’তে আয়োজিত দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও প্রশিক্ষণে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। চট্টগ্রাম সোসাইটি অব ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি (সিএসআইসি) ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাসকুলার ইন্টারভেনশন (বিএসসিআই) যৌথভাবে ‘সিএমই অন কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে। বৈজ্ঞানিক অংশীদার হিসেবে ছিল অ্যাবট ভাস্কুলার।

সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আটটি কেন্দ্রে মোট ১৭ হাজার ২০টি কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনাল কেস এবং ৪ হাজার ৯৪৪টি পিটিসিএ সম্পন্ন হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই বিভিন্ন ধরনের কেস হয়েছে ১২ হাজার ১টি। এর মধ্যে পিটিসিএ হয়েছে ৩ হাজার ৬২০টি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি পর্যায়ে প্রথম আট মাসে ৭৮৬টি পিটিসিএ হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে সিএসসিআরে ৬৭১টি, ম্যাঙ হাসপাতালে ৬৩৭টি, চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৫৪৩টি এবং পার্কভিউ হাসপাতালে ৪৭৯টি পিটিসিএ হয়েছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, শুধু চিকিৎসার সংখ্যা বাড়ানো নয়, স্থানীয় চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমেও চট্টগ্রামের সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যেই সম্মেলনে তরুণ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টদের জন্য সরাসরি জটিল রোগীর চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ, কেস উপস্থাপন ও সর্বশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিএসসিআর ক্যাথল্যাবে জটিল হৃদরোগীর করোনারি ইন্টারভেনশনের লাইভ কেস ডেমোনস্ট্রেশন করা হয়। সম্মেলনস্থল ও ক্যাথল্যাব থেকে চিকিৎসকেরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের রোগী মূল্যায়ন, চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্টেন্ট স্থাপনের বিভিন্ন কৌশল দেখার সুযোগ পান।

সিএসআইসি সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে হৃদরোগের বিভিন্ন ধরনের ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা বাড়ছে। তবে স্থানীয় চিকিৎসকদের আরও দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, রোগীর তথ্যভিত্তিক রেজিস্ট্রি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মেন্টর হিসেবে যুক্ত করা প্রয়োজন। চট্টগ্রামে মোট কেস বাড়লেও কিছু জটিল চিকিৎসা ও রুটিন পিটিসিএতে এখনও আরও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তরুণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব। বিএসসিআই সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান চিকিৎসায় প্রযুক্তির পাশাপাশি সততা ও নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসায় রোগীর জন্য কতটি স্টেন্ট প্রয়োজন বা আদৌ প্রয়োজন কিনা, সে সিদ্ধান্তে চিকিৎসকের সততা ও নৈতিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কতটি স্টেন্ট বসানো হলো তার চেয়ে চিকিৎসার মান এবং কোথায় থামতে হবে তা জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কায়সার নাসরুল্লাহ খান বলেন, তরুণ চিকিৎসকদের কাজ শেখানোই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম বড় সার্থকতা। অর্জিত জ্ঞান তারা রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োগ করলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে রোগীদের কাছে পৌঁছাবে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে উদীয়মান ইন্টারভেনশনিস্টদের পরিচালিত বিভিন্ন জটিল কেসের অডিওভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি হৃদরোগ চিকিৎসার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রটোকল ও জটিল পিসিআই কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা।

ডা. কাজী শামীম আল মামুন, ডা. মুহাম্মদ খোরশেদ আলম এবং ডা. উম্মেল কুলসুমা নিপার সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. আবু তারেক ইকবাল, অধ্যাপক ডা. শেখ হাসান মামুন, অধ্যাপক ডা. এম এ রউফ, ডা. এওয়াইএম নুরুদ্দীন জাহাঙ্গীর এবং ডা. বিপ্লব ভট্টাচার্য। পরবর্তীতে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিবন্ধন উপস্থাপন করেন কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল, ঢাকার সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. কায়সার নসরুল্লাহ খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. নুরুদ্দীন তারেক এবং ডা. আনিসুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিএসসিআই’র কোষাধ্যক্ষ ডা. আবুল খায়ের। অনষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনেক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরীর সমাপনী বক্তব্যের পর সভা শেষ হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড ট্রাস্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড ট্রাস্টের সভা
পরবর্তী নিবন্ধমেধাবী শিক্ষার্থীদের আলোয় আগামী দিনে সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হবে