বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ, সুনীল অর্থনীতির বিকাশ, জলবায়ু পর্যবেক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাসে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের প্রথম ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার’। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এ অত্যাধুনিক গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে সমুদ্র, জলবায়ু ও উপকূলীয় অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। সকাল ১০টায় ওশান সেন্টারের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্–ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, চবি উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) ও উদ্বোধন অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর প্রফেসর ড. ফু বিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এ সেন্টার দেশের ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতিতে এক সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জন্য সমুদ্রবিজ্ঞান ও সমুদ্রভিত্তিক গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সমুদ্রসম্পদের একটি বিশাল অংশ এখনো অব্যবহৃত রয়ে গেছে, কারণ এসব সম্পদের অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এই বিশেষায়িত ডাটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ কেন্দ্র সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য আমরা মৎস্য শিল্প, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং সমুদ্র পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করতে পারব। এ কেন্দ্রটি মূলত তথ্য সংগ্রহ করবে এবং তা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মাঝে পৌঁছে দেবে। এতে আমাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে এবং ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, কাকতালীয়ভাবে এই কেন্দ্রটি আমার নির্বাচনী এলাকার আওতাভুক্ত হওয়ায় আমি অত্যন্ত গর্বিত। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম একটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত হবে।

ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, সমুদ্রবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন–জীবিকা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এ ডাটা ইনোভেশন সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম বলেন, আজকের এ আয়োজন কেবল একটি অবকাঠামোর উদ্বোধন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং কৌশলগত অবস্থানের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক। এটি একদিকে যেমন শিক্ষা ও গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, অন্যদিকে দেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্–ফোরকান বলেন, আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এ গ্রাউন্ড স্টেশনের সংগৃহীত তথ্য বা ডাটা ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারব। এর ফলে আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ তৈরি হলো।
অনুষ্ঠানে চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর প্রফেসর ড. ফু বিন বক্তব্য রাখেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও দুই দেশের মধ্যে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সেন্টার উদ্বোধনের আগে চবি বিএনসিসি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাহমিদা খানম।











