চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে সাফারি পার্কের আদলে আন্তর্জাতিক মানের করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, চিড়িয়াখানাটি শুধু বিনোদনের স্থান হিসেবে নয়, প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম–বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী, তাদের জীবনযাপন, বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই চিড়িয়াখানাকে নতুনভাবে সাজানো হবে।
তিনি গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম–৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো শাহজামান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান ও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ।
এ সময় সাংবাদিকরা চিড়িয়াখানায় বিদ্যমান সাদা বর্ণের বিরল প্রজাতির বাঘ সংরক্ষণ করা, বাঘের অপর্যাপ্ত খাচা সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রাণী আনা প্রসঙ্গে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই চিড়িয়াখানাটিকে সাফারি পার্কের আদলে আন্তর্জাতিক মানের করব। এখানে নতুন প্রাণী ইন্ট্রোডিউস করব আমরা, নতুন প্রাণী আনব।
তিনি বলেন, বিরল প্রজাতির সাদা ডোরাকাটা বাঘ, এটা অ্যালবিনো প্রজাতির; এই বাঘগুলো বাংলাদেশের ঐতিহ্য, এটিকে সংরক্ষণ করা, এটাকে ব্রিডিং করা, কীভাবে এগুলোকে আমরা বাড়াতে পারি, সেই বিষয়গুলো বিবেচনা নিয়েই আমরা পদক্ষেপ নেব। নতুন নতুন প্রাণী এখানে কীভাবে সংযোজন করা যায় এবং আশপাশের এটার পরিধি কীভাবে বাড়ানো যায়, সে ব্যাপারে সকলের সাথে কথা বলব। বিশেষজ্ঞ টিমও আছে আমার, আন্তর্জাতিক মানের টিমও আছে, তাদের অনেককে সাথে করে নিয়ে এসেছি। কথা বলে আমি এটার পদক্ষেপ নিব। আশা করি যেভাবে আমরা এটাকে চিন্তা করেছি, যদি সেভাবে করতে পারি আল্লাহর রহমতে করব। তাহলে চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক বিষয় হয়ে থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সকল চিড়িয়াখানাগুলো কীভাবে আধুনিক করা যায়, মানুষের দর্শকদের জন্য কীভাবে এটি তাদের চাহিদা উপযোগী করা যায় সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। দেশের চিড়িয়াখানাগুলোকে শুধু বিনোদনের স্থান নয়, শিশু–কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান, শিক্ষা ও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটাকেও (চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা) আমরা ইনশাআল্লাহ আধুনিক করব, বিশ্বমানের করব, এটিই আমাদের চিন্তা।
টুকু বলেন, এই চিড়িয়াখানাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে এখানে দর্শনার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। একই সঙ্গে প্রাণীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা, তাদের আবাসস্থল উন্নত করা এবং দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে এমন একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত করা হবে, যেখানে পরিবার নিয়ে মানুষ আনন্দঘন সময় কাটাতে পারবেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম দেশের প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আধুনিক চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্য কেবল প্রাণী প্রদর্শন নয়; বরং প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা, পরিবেশ সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর বিনোদনের সমন্বিত পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত ব্যবস্থাপনা, দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশ এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম যুক্ত করা হবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ও খামারিদের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি একটি খামার দেখতে যাব এবং তাদের সাথে কথা বলব–তারা কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিসি সাহেবের সাথে আমার কথা হয়েছে এবং আমাদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যারা কর্মকর্তা রয়েছে তাদের সাথেও কথা হয়েছে। তাদেরকে কত পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটি নিরূপণ করার জন্য ইতোমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা নির্ণয় করেছে। সেই অনুযায়ী আমরা কে কতটুক ক্ষতিগ্রস্ত, কী করা যায়–চাষিদের এবং খামারীদের সাথে কথা বলে আমরা সর্বোচ্চ তাদের পাশে থেকে তাদেরকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।









