দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা আর আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু হলো ক্রিকেট ইনডোরের। যেকোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর সঙ্গে থাকতে হয় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ইনডোর। চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেও তেমন একটি ইনডোর ছিল। কিন্তু সেটা আউটার রিং রোড়ের ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে ভাঙা পড়ে। পরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার সমঝোতার মাধ্যমে জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উত্তর-পূর্ব কোণে নতুন করে নির্মাণ করা হয় ইনডোরটি। ২০১৯ সালের নভেম্বরে এই ইনডোরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও করোনাসহ নানা জটিলতার কারণে সেটি সম্পন্ন হতে সময় লেগেছে প্রায় তিন বছরেরও বেশি। অবশেষে আলোর মুখ দেখল ইনডোরটি। গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর ইনডোরটি হস্তান্তর করা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে। ইনডোরটির প্রকল্প পরিচালক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজি হাসান বিন শামস জানান, তারা চেয়েছে চট্টগ্রামে একটি একেবারে ব্যতিক্রমধর্মী কিছু হোক। যা মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে। সে চিন্তা থেকে এই দৃষ্টিনন্দন ইনডোরের নকশা করা।
গতকাল প্রধান অতিথি হিসেবে ইনডোরটির উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন। এসময় বক্তব্য রাখেন বিসিবির পরিচালক আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজি হাসান বিন শামস। পরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে ইনডোরটি হস্তান্তর করেন বিসিবির পরিচালক আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে। আর এর মাধ্যমে শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের সবচাইতে সুন্দর এবং দৃষ্টিনন্দন ইনডোরের মালিক হলো জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম।
অনুষ্ঠানে গণপূর্ত সচিব বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নানাবিদ উন্নয়নের পাশাপাশি খেলাধুলার উন্নয়নে নানামুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেটের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখেন। তাই দেশের ক্রিকেটের জন্য এমন একটি কাজ করতে পেরে আমরা বেশ আনন্দিত।
সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, চট্টগ্রামে অনেক উন্নয়ন হচ্ছে এই সরকারের আমলে। আর সে উন্নয়নের মহাসড়কে দেশের ক্রিকেটের সাথেও আমরা সম্পৃক্ত হলাম। এর মাধ্যমে দুপক্ষের সম্পর্কে আরো উন্নতি হবে।
বিসিবির পরিচালক আ জ ম নাছির বলেন, বাংলাদেশে তো বটেই বিশ্বের অনেক দেশেও এমন সুন্দর ইনডোর নেই। যা সরকারের চট্টগ্রামের প্রতি আন্তরিকতার একটি বড় প্রমাণ। তিনি বলেন, এর ফলে দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ক্রিকেটারদের জন্যও ভালো একটি সুযোগ সৃষ্টি হল।
যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে ইনডোরে : ইনডোরটির ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে চারটি উইকেট। যার দুটি ইউনি টার্ফ এবং দুটি গ্রাসি টার্ফ। ইউনি টার্ফ দুটি আনা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। আর গ্রাসি টার্ফ দুটি আনা হয়েছে ফ্রান্স থেকে। একসাথে চারজন ব্যাটসম্যান অনুশীলন করতে পারবে এই ইনডোরে। মূলত বৃষ্টির সময় ইনডোর ব্যবহার করে ক্রিকেটাররা। ইনডোরটিতে লকার সিস্টেম, ড্রেসিং রুম, কনফারেন্স রুম, টয়লেট ব্লকসহ সবকিছু রয়েছে। কাঁচের দেওয়ালে ঘেরা ইনডোরটিতে পর্যাপ্ত আলো থাকবে সবসময়। কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন হবে না। ইনডোরের চাউনিতে উপরে টিনের শিট ব্যবহার করা হলেও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য নিচে রয়েছে প্রোটেকশন। ফলে তাপমাত্রা অসহনীয় হবে না। ইনডোরের উইকেটগুলো নেট দ্বারা আবৃত থাকায় বল দেওয়ালের গ্লাসে গিয়ে আঘাত করার সম্ভাবনা কম। লাগলেও গ্লাস ভাঙবে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বর্তমানে দেশে বিপিএল চলছে। যার একটি পর্ব চলছে এখন চট্টগ্রামে। এ অবস্থায় ক্রিকেটাররা চাইলে এখন থেকে ইনডোরটি ব্যবহার করতে পারবেন। তাছাড়া আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে আসবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। আর সে সফরের আগে এই ইনডোর চালু হওয়ায় ভেন্যুর ভাবমূর্তিও বেড়ে যাবে অনেকখানি।












